ই২০ পেট্রোলে কি গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে? পেট্রোল ডিলারদের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

দেশজুড়ে ই২০ (২০ শতাংশ এথানল মিশ্রিত) পেট্রোল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একদিকে যখন মারুতি সুজুকি, মাহিন্দ্রা ও টয়োটার মতো প্রধান গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলো ই২০ জ্বালানিকে নিরাপদ বলে দাবি করছে, ঠিক তখনই ওড়িশা পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (PDA) এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
ডিলারদের মূল অভিযোগ কী? ওড়িশা পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শশাঙ্ক শেখর সাহুর মতে, ই২০ পেট্রোল চালু হওয়ার পর থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহক অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। তাঁর দাবি:
-
গ্রাহকদের অভিযোগ: সাধারণ গ্রাহকদের অনেকেরই ধারণা, তাদের যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা ইঞ্জিনের সমস্যার মূল কারণ এই এথানল মিশ্রিত জ্বালানি।
-
ডিলারদের অসহায়ত্ব: পাম্প মালিকরা জানাচ্ছেন, তারা কেবলমাত্র সরকার-সরবরাহকৃত জ্বালানিই বিক্রি করেন, জ্বালানি নীতি নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। তবুও গ্রাহকদের যাবতীয় ক্ষোভ ও অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদেরই।
-
সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন: সাহুর যুক্তি, উন্নত অনেক দেশ যেখানে মাত্র ১০ শতাংশ এথানল ব্যবহার করে, সেখানে ভারত ২০ শতাংশ কেন ব্যবহার করছে? তাছাড়া, ভারতের রাস্তায় এখনও এমন প্রচুর পুরনো গাড়ি চলছে যা ই২০-এর জন্য প্রস্তুত নয়, যার ফলে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? পেট্রোল ডিলারদের এই মন্তব্যের বিপরীতে অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলো ই২০ চালুর আগেই দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে এবং এই জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী ইঞ্জিনের যানবাহনগুলোই নিরাপদে চলতে পারে।
সরকার কি সিদ্ধান্ত বদলাবে? এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে কোনো পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত মেলেনি। সরকারের লক্ষ্য হলো জ্বালানি আমদানি কমানো এবং পরিবেশবান্ধব এথানল ব্লেন্ডিং বাড়ানো। তবে ডিলারদের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকার ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।