পরিচয় জালিয়াতির ভয়! এবার মেটা ও টেলিগ্রামের গোপন ফিচারের ব্যাখ্যা চাইল সরকার

দেশজুড়ে সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতি রুখতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে ভারত সরকার। গত তিন সপ্তাহে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং মেটা-র মতো বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাকে একাধিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারের মূল উদ্বেগের কারণ হলো প্ল্যাটফর্মগুলোর কিছু বিশেষ ফিচার, যা অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখতে বা ছদ্মবেশ ধারণ করতে সাহায্য করছে।

সরকারের নজরে যেসব ফিচার:

  • টেলিগ্রাম: NEET-UG পরীক্ষার সময় টেলিগ্রামের মেসেজ এডিট করার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। পাশাপাশি, পাইরেসি বিরোধী নোটিশ পাঠানো হয়েছে এই অ্যাপটিকে।

  • হোয়াটসঅ্যাপ: মেটার জনপ্রিয় এই অ্যাপের নতুন ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সরকার। এছাড়া টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকে তাদের ‘আইডেন্টিটি মাস্কিং’ বা পরিচয় গোপন রাখার ফিচার সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

  • মেটা: ইনস্টাগ্রামে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে মেটা এখন সরকারি তদন্তের মুখে।

কেন এই কড়াকড়ি? তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণান জানিয়েছেন, এই উদ্বেগের কারণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিকাঠামো। ইউজারনেম ফিচারের মাধ্যমে পরিচয় জালিয়াতি ও ছদ্মবেশ ধারণ সহজ হয়ে যাচ্ছে, যা সাইবার অপরাধীদের জন্য একটি ‘সুযোগ’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

সচিব কৃষ্ণান বলেন, “সাইবার অপরাধমূলক কৌশলের ক্ষেত্রে এই ফিচারগুলো যে ধরনের সুবিধা প্রদান করছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। আমরা চাই কোম্পানিগুলো ব্যাখ্যা করুক কেন তারা এই ধরনের ফিচার চালু করতে চায় এবং কীভাবে তা অপরাধ রুখতে সাহায্য করবে।”

বিশেষজ্ঞদের মত: পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ রোহিত কুমারের মতে, সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ন্ত্রক উদ্বেগ কাজ করছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ‘গোপনীয়তা’ বা প্রাইভেসি পলিসি যে এখন থেকে আর অবাধ নয়, তা এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমেই স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *