ন্যাটো সম্মেলনে বড় চমক ট্রাম্পের! আঙ্কারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও জেলেনস্কির সঙ্গে কী কথা হবে?

চলতি সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো (NATO) সম্মেলনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া সদস্য দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষা খাতে ৫ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের চাপ আরও জোরালো করার বার্তাই থাকবে ট্রাম্পের মূল ফোকাস।

ট্রাম্পের ‘ভিক্টোরি ল্যাপ’ কি সম্ভব?
গত বছর দ্য হেগ-এ অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের পর এটিই প্রথম বড় রিপোর্ট কার্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় করে। ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে যদিও গত মাসে ওভাল অফিসে চার্টের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর বর্ধিত ব্যয়ের কথা তুলে ধরে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন, তবুও ট্রাম্পের কণ্ঠে এখনও ক্ষোভের সুর। বিশ্লেষক লুক কফির মতে, সদস্য দেশগুলো যদি নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা লক্ষ্যের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা দেখাতে পারে, তবেই ট্রাম্প এবারের সম্মেলনকে নিজের সাফল্যের মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।

জেলেনস্কি ও আল-শারা-র সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সম্মেলনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের বৈঠক। গত ৫ বছর ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব এবং সামরিক সহায়তার বিষয়টি এই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। গত ৪ জুলাই ট্রাম্প জেলেনস্কি ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।

পাশাপাশি, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-র সাথেও ট্রাম্পের একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়াকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার জন্য ট্রাম্প চাপ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, বিদ্রোহী বাহিনী থেকে ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার নতুন প্রশাসন হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছে।

বদলাচ্ছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি
ইরান ইস্যুতে জি-৭ সম্মেলনে অন্যান্য নেতাদের সমর্থন পাওয়ার পর ট্রাম্প এখন ন্যাটোর দেশগুলোর সাথেও নিজের একচেটিয়া প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া। ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান বা গ্রিনল্যান্ড কেনার মতো বিতর্কিত ইস্যুতে আমেরিকার সাথে অনেক মিত্র দেশেরই মতপার্থক্য রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আঙ্কারার মাটিতে দাঁড়িয়ে ন্যাটো জোটকে ট্রাম্প কতটা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *