৬০-এও কেন এত ফিট আমির খান? অভিনেতার অটুট স্বাস্থ্যের রহস্য ফাঁস!

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। ৬০ বছর বয়সে এসেও তাঁর যে কোনো যুবকের সমতুল্য এনার্জি দেখে চমকে যান অনেকেই। সিনেমার চরিত্রের প্রয়োজনে কখনো ওজন বাড়িয়ে ভুঁড়ি বাড়ানো, আবার কখনো কয়েক মাসের মধ্যে সিক্স-প্যাক অ্যাবস তৈরি করা— আমিরের এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের নেপথ্যে কোনো ম্যাজিক নেই, আছে কঠোর শৃঙ্খলা এবং সঠিক জীবনযাত্রা। কীভাবে নিজেকে এতটা ফিট রাখেন অভিনেতা? জেনে নিন তাঁর ফিটনেস মন্ত্র।
১. প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডায়েট:
আমিরের ডায়েটে প্রোটিনের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। পেশির গঠন মজবুত রাখতে তিনি নিয়ম করে ডিম, চিকেন, মাছ এবং ডাল খান। পাশাপাশি, জাঙ্ক ফুড থেকে নিজেকে সবসময় কয়েক হাত দূরে রাখেন তিনি।
২. পরিমিত কার্বোহাইড্রেট:
শর্করাকে পুরোপুরি বাদ দেন না আমির। বরং সারাদিন শরীরকে সচল ও শক্তিমান রাখতে ব্রাউন রাইস, ওটস এবং মাল্টিগ্রেন রুটির মতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট বেছে নেন তিনি।
৩. জিম ও স্ট্রেংথ ট্রেনিং:
সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই জিমে ঘাম ঝরান আমির। তাঁর রুটিনে কার্ডিও এবং ফাংশনাল এক্সারসাইজের পাশাপাশি স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের বিশেষ গুরুত্ব থাকে, যা শরীরকে টোনড রাখতে সাহায্য করে।
৪. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও জল:
শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন আমির। ব্যস্ত শুটিং শিডিউলের মাঝেও তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সারাদিন প্রচুর জল পান করেন।
৫. চরিত্রের প্রয়োজনে ডায়েট পরিবর্তন:
আমিরের ফিটনেসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি ছবির চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী ডায়েট ও ওয়ার্কআউটে বদল আনা। তবে এই পরিবর্তনগুলো তিনি বিশেষজ্ঞ বা ট্রেইনারদের পরামর্শ মেনেই করেন, যা শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে দেয় না।
মূল মন্ত্র—শৃঙ্খলাই আসল:
আমিরের কাছে ফিটনেস মানে কোনো সাময়িক প্রচেষ্টা নয়, বরং জীবনযাপনের এক অংশ। দীর্ঘদিনের কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং অভ্যাসই তাঁকে এই বয়সেও দর্শকদের সামনে একজন সুপারহিরো হিসেবে তুলে ধরেছে। আপনিও কি আমিরের মতো ফিট থাকতে চান? তাহলে আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাস বদল শুরু করুন।