অভিষেকের পিএ-র খোঁজেই ম্যারাথন জেরা! এসটিএফ-এর নজরে দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘গোপন’ চ্যাট

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায়ের হদিশ পেতে এবার আসরে নামল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শালবনির জমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার তদন্তে উঠে আসা সুমিত রায়ের খোঁজ পেতে বিধাননগর কমিশনারেটের এসআইটি (SIT) হেফাজতে থাকা দেবরাজ চক্রবর্তীকে টানা ২ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করলেন এসটিএফ তদন্তকারীরা।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে কেন দেবরাজ? তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দেবরাজ চক্রবর্তী নিজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এই ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই সুমিত রায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলে অনুমান পুলিশের। এসটিএফ-এর দাবি, কেবল অনুমানের ভিত্তিতে নয়, দেবরাজের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই এই জেরা চলছে।
কী উঠে এল তদন্তে? এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে:
-
ডিলিট করা চ্যাট: দেবরাজের মোবাইল ফোন থেকে বেশ কিছু ডিলিট করে দেওয়া চ্যাট উদ্ধার করেছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। সেই চ্যাটেই সুমিত রায়ের সঙ্গে কথোপকথনের সূত্র পাওয়া গেছে।
-
সন্দেহজনক নম্বর: দেবরাজের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক রহস্যময় ফোন নম্বর এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে।
-
ডিজিটাল ক্লু: ডিলিট করা চ্যাট ও কল লিস্টের সূত্র ধরেই সুমিত রায়ের বর্তমান অবস্থান বা পালিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে চাইছে এসটিএফ।
রাজনৈতিক চাপানউতোর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়কের নাম জালিয়াতি মামলায় জড়ানো এবং এরপর অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তীকে এই মামলার তদন্তে এসটিএফ-এর জেরা করাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। দেবরাজের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যগুলো কি কোনো বড় রহস্যের দরজা খুলে দেবে? নাকি এই সুত্র ধরেই সুমিত রায়ের হদিশ মিলবে? এখন সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।