পর্দায় শরীরী আবেদন ফুটিয়ে তোলার খেসারত! বাস্তবেই নোংরা আক্রমণের শিকার মির্জাপুরের ‘জারিনা’

পর্দায় শরীরী আবেদন আর রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ। ক্ষমতার লোভে নিজেকে নিংড়ে দেওয়া এক ধূসর চরিত্র—’মির্জাপুর’ সিরিজের ‘জারিনা’। এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলে দারুণ প্রশংসায় ভেসেছিলেন অভিনেত্রী অনঙ্গশা বিশ্বাস। কিন্তু পর্দার এই তুমুল জনপ্রিয়তাই তাঁর বাস্তব জীবনকে একসময় এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে বদলে দিয়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অন্ধকার দিকটাই প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী।

অভিনয়ে নিষ্ঠাই কি কাল হলো?

অভিনয়কে নিজের আরাধনা বা সরস্বতী মনে করেন অনঙ্গশা। অথচ, ‘মির্জাপুর সিজন ১’ মুক্তির পরেই তাঁর জীবনের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। ভক্তদের প্রশংসার বদলে তাঁর সমাজমাধ্যমের ইনবক্স ভেসে যায় কুরুচিকর ইমেল, অশ্লীল কমেন্ট আর নোংরা প্রস্তাবে।

নিজের আতঙ্কের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী জানান, সেই সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, তিনি তো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজটা করেছেন, তবে কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে?

ইনবক্সে আসত সোজাসুজি কুপ্রস্তাব

দর্শকদের একটি অংশের মানসিকতার চরম সমালোচনা করে অনঙ্গশা জানান, মানুষ পর্দার চরিত্র এবং বাস্তব জীবনকে এক করে দেখতে শুরু করেছিল। তাঁর কথায়, অনেকে তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞেস করত, ‘এক রাতের জন্য কত নেবে? দু’দিনের জন্য আমাদের সঙ্গে মরিশাস যাবে?’ এই ধরনের নোংরা মেসেজে ইনবক্স ভরে গিয়েছিল। অভিনেত্রীর মতে, দর্শকের এই বিকৃত মানসিকতা বদলানো অত্যন্ত জরুরি। একজন অভিনেতা পর্দায় যে চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন, তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোনো মিল নেই—এই সহজ সত্যটা কবে বুঝবে সমাজ?

আসছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’

বিতর্ক ও বেদনার এই অধ্যায়কে পেছনে ফেলে অনুরাগীদের জন্য এবার আসছে বড় চমক। ওটিটির গণ্ডি পেরিয়ে এবার সোজা বড়পর্দায় আসছে বহু প্রতীক্ষিত ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। প্রযোজক ফারহান আখতার ট্রেলার লঞ্চে জানিয়েছেন, দর্শকদের চরম চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই ছবি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছবিতে পুরনো আইকনিক চরিত্রগুলোর সঙ্গে থাকছে বড় টুইস্ট। পঙ্কজ ত্রিপাঠি (কালীন ভাইয়া), দিব্যেন্দু (মুন্না ভাইয়া), আলি ফজল (গুড্ডু পণ্ডিত), রসিকা দুগ্গল এবং অনঙ্গশা বিশ্বাসের পাশাপাশি এই সিনেমায় ‘বাবলু পণ্ডিত’-এর চরিত্রে নতুন চমক হিসেবে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা জিতেন্দ্র কুমারকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *