‘আমিই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছি’, বড় ঘোষণা করে জানালেন মমতা ব্যানার্জি

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন এবং একের পর এক নেতার দলত্যাগের আবহে শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ‘গদ্দার’ ও ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে দলত্যাগীদের তোপ দাগলেন তিনি। একইসঙ্গে, সুব্রত বক্সী অসুস্থ থাকায় দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নিজেই তুলে নিলেন মমতা।

দলে ভাঙন ও মমতার ক্ষোভ: দলত্যাগীদের উদ্দেশ্যে তীব্র ভাষায় মমতা বলেন, “যারা তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এসে বলছে পার্টির অস্তিত্ব নেই, তারা ভোটে দাঁড়ালেন কীভাবে? আমার দেওয়া সিম্বল ও সইয়ের ওপর ভর করেই তো প্রার্থী হয়েছিলেন।” সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “বেইমানি করার একটা সীমা থাকা উচিত। বুকের পাটা থাকলে বিজেপিতে গিয়ে সরাসরি যোগ দিন। কী ভাবছেন, আমি মরে গিয়েছি?”

তৃণমূল ভবন দখল প্রসঙ্গে: শনিবার তৃণমূল ভবন দখল প্রসঙ্গে মমতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “ভবনটি ব্যক্তিগত নয়, এটি মা-মাটি-মানুষের সম্পত্তি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভাড়া দেওয়া ছিল। অথচ সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে এসে বাড়ি দখল করা হচ্ছে। আমাদের কাছে সব ডকুমেন্টস রয়েছে, প্রতি মাসে এক লাখ টাকা ভাড়া দেওয়া হতো।” তাঁর মতে, এভাবে ঘর দখল করা গেলেও মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না।

চন্দ্রিমার পদত্যাগ ও পুলিশি ব্যবস্থা: প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “উনি হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেননি। ওঁর ছেলে অনেক আগেই অন্য দলে নাম লিখিয়েছে। একজন দু’জনের ওপর পার্টি নির্ভর করে না, দল চলে কর্মী ও মানুষের ওপর।”

পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা অভিযোগ করেন, “আইসি, ওসিদের দিয়ে ব্লক প্রেসিডেন্টের কাজ করানো হচ্ছে। পুলিশ গিয়ে বলছে, আমাদের সাথে চলুন নয়তো লকআপে যান। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও আমরা এমন কাজ কখনো করিনি।”

নতুন দায়িত্ব: লাইভের শেষ দিকে মমতা জানান, সুব্রত বক্সী অসুস্থ থাকায় দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলাবেন তিনি নিজেই। দলের সিম্বল নিজের গলায় ঝুলিয়ে মানুষের কাছে বের হওয়ার কথা উল্লেখ করে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনো শক্তিই তাঁর রাজনৈতিক লড়াইকে স্তব্ধ করতে পারবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *