দলবদল কি সময়ের অপেক্ষা? ইনস্টাগ্রামে রহস্যময় পোস্ট সায়নী ঘোষের, চাঞ্চল্যকর দাবি তাপস মণ্ডলের!

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুকরণে সাদা শাড়ি ও চটিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা সায়নী ঘোষের সাম্প্রতিক চালচলন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। সবুজ শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং রহস্যময় পোস্ট ঘিরে অভিনেত্রীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
ইনস্টাগ্রামে নতুন পোস্ট ও রহস্য:
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেছেন সায়নী। পরনে শাড়ি, কপালে লাল টিপ এবং চুলে কার্ল স্টাইল—অভিনেত্রীর এই নতুন লুক নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ছবির ক্যাপশনে সায়নী লিখেছেন, “আমি পরের চ্যাপ্টারের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখি, কারণ সেই চ্যাপ্টারের লেখিকা আমি।” সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ছবির কমেন্ট সেকশন তিনি বন্ধ রেখেছেন। দলের অন্যান্য বিক্ষুব্ধ সাংসদ যেমন জুন মালিয়া বা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়রা যেখানে কমেন্ট সেকশন খোলা রেখে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের সুযোগ রাখছেন, সেখানে সায়নীর এই কঠোর গোপনীয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
তাপস মণ্ডলের বিস্ফোরক দাবি:
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সায়নী ঘোষকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত ‘মিডলম্যান’ তাপস মণ্ডল। কুন্তল ঘোষের সঙ্গে সায়নীর যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, “গোটা রাজ্যে এরকম হাজার কুন্তল পাওয়া যাবে যারা অভিষেকের নাম করে টাকা তুলেছে। সায়নীর পেছনে কুন্তল অনেক টাকা খরচ করেছে। কারণ, কুন্তল ছিল যুব সম্পাদক আর সায়নী যুব সভানেত্রী। সায়নীকে ফ্ল্যাট, গাড়িও দিয়েছে কুন্তল।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, তৃণমূলের দলীয় বৃত্তে সায়নীর এই অবস্থান পরিবর্তন এবং তাপস মণ্ডলের এই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী বা দলীয় নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সায়নী ঘোষ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তৃণমূলের অন্দরে কি তবে সত্যিই বড় ভাঙন আসন্ন? নাকি এটি সায়নীর ব্যক্তিগত কোনো কৌশলী পদক্ষেপ? সব উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।