“ভক্তদের আবেগে বড় আঘাত”-রাম মন্দিরের প্রণামী চুরি নিয়ে কড়া বিবৃতি RSS-এর

রাম মন্দিরে প্রণামী ও দান সামগ্রী চুরির ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে আরএসএস সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসবালে জানিয়েছেন, এর ফলে কোটি কোটি রামভক্তের শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে আঘাত লেগেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরএসএস-এর কড়া বিবৃতি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দত্তাত্রেয় হোসবালে বলেন, “রাম জন্মভূমিতে তৈরি এই পবিত্র মন্দিরটি দীর্ঘ সংগ্রাম ও কোটি কোটি ভক্তের ত্যাগের ফল। মন্দিরের অনুদান চুরি যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি আরও বলেন, সঙ্ঘ এবং সমগ্র হিন্দু সমাজের প্রত্যাশা, এই গুরুতর বিষয়টিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখা যাবে না। মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে, যাতে ভক্তদের আস্থা অটুট থাকে।
তদন্তে বিশেষ দল (SIT) উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। আরএসএস আশা প্রকাশ করেছে, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হবে এবং দোষীরা কঠোর শাস্তি পাবে। পাশাপাশি মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ট্রাস্টকে আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে সঙ্ঘ।
ঠিক কী ঘটেছিল? সম্প্রতি অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান ও পূজার সামগ্রী চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একাংশ জড়িত। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের ড্রাইভার তিনু যাদব-সহ মোট আটজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মন্দিরের দানবাক্স ও অনুদান গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে এই চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সরকার এবং মন্দির ট্রাস্ট কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এবং মন্দিরের অন্দরের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।