প্রতি ৩ জনে ১ জনের ফ্যাটি লিভার! রোগমুক্ত হতে জিম নাকি হাঁটা—কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

বর্তমান সময়ে ভারতের ঘরে ঘরে যে স্বাস্থ্য সমস্যাটি আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হলো ‘ফ্যাটি লিভার’। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হচ্ছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নন, মাত্র ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরাও আজ এই রোগের শিকার। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অলস জীবনযাত্রা এর প্রধান কারণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জিম, যোগব্যায়াম নাকি হাঁটা—কোনটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর?

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? কৈলাশ দীপক হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ যতিন্দর সিং ভোগাল জানান, ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট কোনো ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করার চেয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আসল চাবিকাঠি।

তিনি বলেন, “ব্যায়ামের ধরন যাই হোক, তা নিয়মিত হওয়া জরুরি। চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী, সপ্তাহে আড়াই থেকে পাঁচ ঘণ্টা দ্রুত হাঁটা বা সাইকেল চালানোর মতো মাঝারি-তীব্রতার ব্যায়াম লিভারের চর্বি কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।”

ওজন কমানোর রহস্য: ডাঃ ভোগাল আরও জানান, শরীরচর্চার মাধ্যমে আপনার মোট ওজনের মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমাতে পারলেও লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। আর যদি ওজন ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়, তবে লিভারের প্রদাহ এবং ক্ষত (স্কারিং) অনেকাংশে দূর হতে পারে।

আপনার জন্য কোনটি উপযোগী?

  • হাঁটা: যারা দীর্ঘদিন কোনো শারীরিক পরিশ্রমের মধ্যে নেই, তাদের জন্য দ্রুত হাঁটা সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায়।

  • জিম: আপনি যদি শরীরচর্চায় অভ্যস্ত হন, তবে কার্ডিও-র সঙ্গে স্ট্রেংথ ট্রেনিং যুক্ত করতে পারেন। এটি লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

  • যোগব্যায়াম: মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে সচল রাখতে যোগব্যায়াম একটি দারুণ বিকল্প।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *