তদন্তের নামে এলাকা পরিদর্শনে শওকত! রাস্তার দুপাশে জনতার ঢল, শোরগোল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে ফের তোলপাড়। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর, এবার ধর্ষণের অভিযোগে জীবনতলা থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে নিয়ে শুরু হলো নতুন নাটক। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে শওকতকে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কী কারণে এই এলাকা পরিদর্শন? এনআইএ হেফাজত শেষে শওকত মোল্লাকে চার দিনের জন্য জেলা পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়। জীবনতলা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান চিহ্নিত করতে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করতেই এই এলাকা পরিদর্শনের প্রয়োজন ছিল।
রাস্তায় উপচে পড়া ভিড়: শওকত মোল্লাকে ঘিরে এলাকা পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় সাধারণ মানুষের ঢল নামে। পুরুষ, মহিলা থেকে শুরু করে যুবক—সবাই ভিড় জমান রাস্তার দু’ধারে। অনেকে মোবাইলে ছবি তুলতে বা ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জীবনতলা থানার পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
ব্যঙ্গাত্মক গানের সুর: শওকত মোল্লাকে পুলিশের কনভয়ে ঘোরানোর সময় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশ রাস্তায় মাইকে ‘শওকত মাছ চোর’ শিরোনামের একটি ব্যঙ্গাত্মক গান বাজাতে শুরু করেন। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে বহুদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ গান বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ: একদিকে ভাঙড় বোমা মামলা, অন্যদিকে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে শওকতের এই অবস্থা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে ও বিরোধী মহলে চলছে জোর জল্পনা। শাসকদলের প্রভাবশালী নেতার এমন ‘দুর্দশা’ স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।