প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই, সিসিটিভি ফুটেজও অধরা! কেতন হত্যা মামলার জট খুলতে এবার পলিগ্রাফের শরণাপন্ন তদন্তকারীরা

পুণে ও মহারাষ্ট্রের আলোচিত ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্তে এখন সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘তথ্যপ্রমাণের অভাব’। লোনাভালার লোহাগড় দুর্গ থেকে ব্যবসায়ীকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত এমন কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী বা ভিডিও প্রমাণ পায়নি, যা দিয়ে সরাসরি অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব। ফলে তদন্তকারীদের একমাত্র ভরসা এখন ‘পারিপার্শ্বিক প্রমাণ’ এবং অভিযুক্তদের পলিগ্রাফ বা ‘লাই ডিটেক্টর টেস্ট’।
কেন পলিগ্রাফ টেস্ট? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল (কেতনের হবু স্ত্রী) এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বয়ান রেকর্ড করা হলেও, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বড়সড় ফাঁক রয়ে গেছে। গত ১৮ জুন দুর্গ থেকে কেতনকে কে ধাক্কা দিয়েছিল, তার সরাসরি কোনো প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই। তাই মামলার তদন্তকে গতি দিতে এবং অভিযুক্তদের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে আদালতের কাছে পলিগ্রাফ পরীক্ষার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
পরীক্ষাটি কী এবং কতটা কার্যকর? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর টেস্টে সরাসরি মিথ্যা ধরা হয় না। পরীক্ষার সময় অভিযুক্তের শরীরে সেন্সর লাগিয়ে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ঘামের পরিবাহিতা রেকর্ড করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন অস্বাভাবিক হলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, ভয়ের কারণেও অনেক সময় একই প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
আইনি জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা: আইনজীবী দিয়া ঘোষের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তের স্বেচ্ছাসম্মতি ছাড়া এই পরীক্ষা করা আইনত অসম্ভব। অর্থাৎ, সিয়া গোয়েল যদি এই পরীক্ষায় রাজি না হন, তবে পুলিশের এই আবেদন আদালতে খারিজ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, পলিগ্রাফ টেস্টের ফলাফল সরাসরি আদালতে ‘অপরাধের চূড়ান্ত ভিত্তি’ হিসেবে গণ্য হয় না। এটি কেবল তদন্তের দিশা নির্ধারণে সহায়তা করে।
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ: পুলিশ এখন ডিজিটাল প্রমাণের ওপরও জোর দিচ্ছে। অভিযুক্তরা অতীতে ইন্টারনেট থেকে হত্যার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কিছু সার্চ করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল বা সিন-অফ-ক্রাইম পুনরায় সাজিয়ে (রিকনস্ট্রাকশন) ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে।
কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে এই পলিগ্রাফ টেস্ট আদৌ সফল হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।