জমির মালিকানা নেই? চিন্তা নেই! এবার কৃষকের স্বীকৃতি পাবেন নারীরা, আসছে বড় বদল

কৃষিক্ষেত্রে পিতৃতান্ত্রিক প্রথা ভেঙে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল মহারাষ্ট্র। রাজ্যের বর্ষাকালীন অধিবেশনে পাস হলো ‘মহারাষ্ট্র মহিলা কৃষক বিল ২০২৬’। এই বিল পাশের মাধ্যমে ভারত তো বটেই, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে মহারাষ্ট্র সরকারিভাবে নারীদের ‘কৃষক’-এর মর্যাদা প্রদান করল। বিরোধী দলগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে এই বিলটি পাস হয়েছে।

কেন এই বিল এত গুরুত্বপূর্ণ? দীর্ঘদিন ধরে কৃষিপ্রধান গ্রামগুলোতে নারীরা মাঠে কঠোর পরিশ্রম করলেও তাঁদের কেবল ‘কৃষি শ্রমিক’ হিসেবে দেখা হতো। জমির মালিকানা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষদের নামে থাকায় নারীরা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত হতেন। এই বৈষম্য দূর করতেই সরকার এই নতুন বিলটি এনেছে।

নারী কৃষকরা কী কী সুবিধা পাবেন? এই নতুন বিলের আওতায় লক্ষ লক্ষ নারী কৃষক বিশেষ কিছু অধিকার ও সুবিধা পাবেন:

  • স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র: রাজ্যের প্রতিটি নিবন্ধিত নারী কৃষককে একটি বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যা তাঁদের অধিকার রক্ষার আইনি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

  • সরকারি প্রকল্পের সুবিধা: এতদিন জমি নেই বলে যেসব প্রকল্পের সুবিধা নারীরা পেতেন না, এখন থেকে তাঁরা কৃষক হিসেবে সেই সব প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাবেন।

  • সহযোগী পেশায় স্বীকৃতি: কেবল চাষাবাদ নয়, মৎস্যচাষ, পশুপালন, পোল্ট্রি এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহের মতো কাজে নিযুক্ত নারীরাও এখন থেকে ‘কৃষক’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

  • আর্থিক সহায়তা: নারী কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে সরকার ‘মহারাষ্ট্র রাজ্য মহিলা কৃষক তহবিল’ গঠন করবে।

  • জমির অধিকার: ভবিষ্যতে কৃষি জমির ৭/১২ অংশ যাতে নারীদের নামে নিবন্ধিত হয়, সেই উদ্যোগকেও এই বিলের মাধ্যমে ত্বরান্বিত করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নারী ক্ষমতায়নের পথে একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি তাঁরা নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য স্বীকৃতি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভে সক্ষম হবেন।

মহারাষ্ট্রের এই মডেলটি ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্যগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *