৫.৮০ কোটির ভুয়া চুক্তি! রাম নিবাস মন্দির দখল নিয়ে অযোধ্যায় শুরু নতুন বিতর্ক

রাম মন্দিরের দান ও অর্ঘ্য নিয়ে চলা বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই অযোধ্যায় সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এবার রাম জন্মভূমি চত্বরের পাশেই অবস্থিত প্রাচীন ‘রাম নিবাস মন্দির’ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ কী? লখনউতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাম নিবাস মন্দিরের পঞ্চ প্রমুখ হরিশঙ্কর সাফারিওয়ালা দাবি করেছেন, মন্দিরটি একটি পঞ্চায়েত মন্দির এবং এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাঁর অভিযোগ, চম্পত রায় ও তাঁর সহযোগীরা জাল নথিপত্র তৈরি করে ৫.৮০ কোটি টাকার একটি প্রতারণামূলক চুক্তি করেছেন। এই জাল দলিলের মাধ্যমেই মন্দিরটি জবরদখলের ছক কষা হয়েছে।
টাকা লেনদেনের অভিযোগ: হরিশঙ্কর সাফারিওয়ালার দাবি, মন্দিরের পুরোহিত ও তাঁর আত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জমি দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তিনি আরও জানান, মন্দির কমিটির সদস্যদের কোটি কোটি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জায়গাটি খালি করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটির আপত্তিতে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
দখলদারদের কব্জায় ৫ বছর? অভিযোগকারীর দাবি, অযোধ্যার রামকোট এলাকায় অবস্থিত এই মন্দিরের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। গত পাঁচ বছর ধরে অভিযুক্তরা এই মন্দিরটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এছাড়া ভক্তদের দান ও অর্ঘ্যের হিসাব চাইলেও ট্রাস্টের তরফে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: এই জালিয়াতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন হরিশঙ্কর। রাম নিবাস মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি একটি পঞ্চ সমিতির সম্পত্তি, যা আইনত কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা বিক্রি করতে পারে না।
রাম মন্দিরের ট্রাস্টের প্রভাবশালী কর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় অযোধ্যার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।