সোনার দামে বড় পতন, গোল্ড লোনের বাজারে কি ধস? জেনে নিন বিস্তারিত

বিশ্ববাজারে সোনার দামে চলছে বড়সড় সংশোধন। প্রায় প্রতিদিনই কমছে সোনার দর। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যারা সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছেন বা নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের অবস্থা কী হবে? সোনার দাম কমলে কি গোল্ড লোনের বাজারে ধস নামবে? তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, ভয়ের কোনো কারণ নেই। ভারতের গোল্ড লোন সেক্টর আপাতত অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
গোল্ড লোন মার্কেটের জোরালো চাহিদা সোনার দাম কমলেও ভারতে গোল্ড লোনের চাহিদা বা ঋণের গতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। ইলারা সিকিউরিটিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে গোল্ড লোনের বাজারে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার (CAGR) প্রায় ৪২ শতাংশ। বিশেষ করে নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানি (NBFC)-গুলির গোল্ড লোন পোর্টফোলিও অভাবনীয় ৯৬.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, বাজারের চাহিদা এখনও তুঙ্গে।
কেন চিন্তার কারণ কম? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার দামের পতনে ঋণদাতা সংস্থাগুলির ঝুঁকি কম হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
-
স্বল্প লোন-টু-ভ্যালু (LTV): বর্তমানে গোল্ড লোনের গড় LTV রেশিও ৬০ শতাংশের অনেক নিচে। এর মানে হলো, সোনার বাজারদর অনেকটা কমে গেলেও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর মূলধনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।
-
পুরোনো ও বিশ্বস্ত গ্রাহক: মোট গোল্ড লোনের প্রায় ৯৪ শতাংশই এমন গ্রাহকদের দেওয়া হয়েছে, যাদের আগে ঋণ পরিশোধের ভালো রেকর্ড রয়েছে। নতুন বা অনভিজ্ঞ গ্রাহকের সংখ্যা মাত্র ৬ শতাংশ, যা ঋণদাতাদের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়।
-
মজবুত মূলধন: NBFC-গুলির মূলধন পর্যাপ্ততার হার প্রায় ২৪.৬ শতাংশ, যা এই শিল্পকে যে কোনো আর্থিক ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা জোগাচ্ছে।
সোনার দামে কি আরও পতন সম্ভব? ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম আরও ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে বিশ্ব অর্থনীতি শক্তিশালী হলে এবং সুদের হার বাড়লে দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সংশোধন হতে পারে। কিন্তু, দীর্ঘমেয়াদী ধসের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ: ১. বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর সোনা কেনার প্রবল চাহিদা। ২. বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা এখনও একটি ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ। ৩. দাম কমলেই সাধারণ ক্রেতারা সোনা কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা দামকে একটি নির্দিষ্ট সাপোর্ট লেভেলে ধরে রাখে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের ওপর সোনার দাম নির্ভর করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে গোল্ড লোন শিল্প যথেষ্ট স্থিতিশীল। আপনি যদি গোল্ড লোন নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তবে মনে রাখবেন, সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা কবজ যথেষ্ট মজবুত। তবে বিনিয়োগ বা ঋণের ক্ষেত্রে বাজারের ওঠানামা নজরে রাখা সবসময়ই বুদ্ধিমানের কাজ।