‘তৃণমূল তৃণমূলকে ডিম ছুড়েছে, আমরা কী করব?’ মহুয়া কাণ্ডে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ওপর ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তবে এই ঘটনার দায় নিতে নারাজ বিজেপি। উলটে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক বিস্ফোরক মন্তব্যে দাবি করেছেন, এটি সম্পূর্ণ তৃণমূলের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দল’-এর ফল।
ঠিক কী বলেছেন শমীক? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য কার্যত তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল তৃণমূলকে ডিম ছুড়েছে, আমরা কী করব? সাধারণ মানুষ ডিম ছুড়ুক বা তৃণমূলই তাদের নিজেদের নেত্রীকে ডিম ছুড়ুক, এতে বিজেপির কী করার আছে?”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গ: এদিন পুলিশ প্রশাসনকেও তীব্র কটাক্ষ করেন শমীক। তিনি বলেন, “পুলিশের কাছে মেটাল ডিটেক্টর আছে ঠিকই, কিন্তু পকেটে ডিম আছে কি না, তা ধরার কোনো মেশিন তো নেই! এটা পুলিশি ব্যর্থতা নয়, বরং রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার ঘটনা।”
বিজেপির অবস্থান: তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগের জবাবে শমীক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির দূরতম সম্পর্কও নেই। তাঁর দাবি, দলের ভেতরেই ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তুঙ্গে। মহুয়া মৈত্র দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ, আর তাঁর ওপর এমন হামলা প্রমাণ করে তৃণমূলের অন্দরের বিভেদ এখন আর গোপন নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁরা মনে করছেন, তৃণমূলের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই যে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, শমীক এই মন্তব্যের মাধ্যমে তা-ই জনসমক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তৃণমূল এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও, শমীকের পালটা আক্রমণে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে শমীক ভট্টাচার্যের ‘ডিম শনাক্তকরণ মেশিন’ নিয়ে করা মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে এবং তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।