কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে কর্মী ছাঁটাই? মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে এক্সবক্স ও সেলস টিমে

প্রযুক্তি বিশ্বে আবারও অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। শোনা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাইয়ের নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটি তাদের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ২.৫ শতাংশ বা ৫,০০০-এরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মাইক্রোসফটের সেলস, কনসাল্টিং এবং এক্সবক্স গেমিং বিভাগ।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? বর্তমানে প্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে যে বিপ্লব চলছে, মাইক্রোসফট তার সামনের সারিতে থাকতে চায়। জেনারেটিভ এআই-এর পরিকাঠামোয় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য কোম্পানিটিকে ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গত এক মাসে কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ পড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে খরচ কমানোর অংশ হিসেবেই মাইক্রোসফট নতুন এই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কাদের ওপর প্রভাব পড়বে?
-
বিক্রয় ও পরামর্শ বিভাগ: এই বিভাগগুলোতে বড় আকারের রদবদল হতে পারে।
-
এক্সবক্স গেমিং: হার্ডওয়্যার তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানি তাদের গেমিং বিভাগের পুনর্গঠন করছে। গ্রাহক পণ্যগুলোর দাম প্রায় ১৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।
কী করছে মাইক্রোসফট? খরচ কমাতে কোম্পানিটি মার্কিন কর্মীদের জন্য একটি ‘স্বেচ্ছামূলক অবসর কর্মসূচি’ চালু করেছে। যাদের বয়স এবং চাকরির মেয়াদ মিলে ৭০ বছরের বেশি, তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন। যদিও মাইক্রোসফট আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই নতুন ছাঁটাইয়ের খবর নিশ্চিত করেনি, তবে গুগল, অ্যামাজন এবং মেটার মতো একই পথে মাইক্রোসফটের হাঁটার ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
গত বছরের রেকর্ড: মাইক্রোসফটের কর্মীদের জন্য ছাঁটাইয়ের ঘটনা নতুন নয়। গত বছর (২০২৫ সাল) কোম্পানিটি দুই দফায় মোট ১৫,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল—মে মাসে ৬,০০০ এবং জুলাই মাসে আরও ৯,০০০। ফলে গত বছরের মতোই এ বছরও কর্মীদের ওপর বড়সড় আঘাত আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে মাইক্রোসফটে প্রায় ২,২০,০০০ কর্মী কাজ করছেন। ছাঁটাইয়ের এই খবর নিশ্চিত হলে প্রযুক্তি বিশ্বে চাকরির বাজার আবারও নতুন করে অস্থির হয়ে উঠবে।