হানিফ শেখের কারসাজি! ১৪৩ কোটির জালিয়াতিতে অভিযুক্ত ২২১টি সংস্থা, সেবির কঠোর পদক্ষেপে তোলপাড় বাজার

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) শেয়ার বাজারে এক বিশাল পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জালিয়াতির দায়ে ২২১টি সংস্থাকে আগামী সাত বছরের জন্য শেয়ার বাজার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত হানিফ শেখের ওপর ১০ কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
কীভাবে চলত এই জালিয়াতি? ‘পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প’ হলো এক ধরনের সিকিউরিটিজ জালিয়াতি। এর মূল কৌশল হলো:
-
পাম্প: প্রতারকরা প্রথমে কম মূল্যের শেয়ার কিনে সোশ্যাল মিডিয়া বা গুজবের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে তার দাম আকাশচুম্বী করে তোলে।
-
ডাম্প: দাম চূড়ায় পৌঁছালে তারা সেই শেয়ার বিক্রি করে বিপুল মুনাফা লুটে নেয়, যার ফলে সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন।
কি ছিল হানিফ শেখের এই ষড়ষন্ত্র? সেবির ৩৯৪ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হানিফ শেখ মৌরিয়া উদ্যোগ লিমিটেড, ৭এনআর রিটেইল, দার্জিলিং রোপওয়ে, জিবিএল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিশাল ফ্যাব্রিকসের মতো পাঁচটি সংস্থার শেয়ারে এই কারসাজি চালিয়েছিলেন। ২০০টিরও বেশি আন্তঃসংযুক্ত সংস্থা নিয়ে তিনি এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতি পরিচালনা করতেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪৩.৭৯ কোটি টাকার অবৈধ মুনাফা অর্জন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কড়া শাস্তির মুখে অভিযুক্তরা:
-
মূল অভিযুক্ত: হানিফ শেখকে ৭ বছরের জন্য বাজার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ১০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
-
সহযোগী সংস্থা: তার সঙ্গে যুক্ত ৫টি সংস্থাকে ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং প্রত্যেককে ২ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
-
আদায়ের নির্দেশ: সেবি সমস্ত অভিযুক্তের কাছ থেকে ১২ শতাংশ বার্ষিক সুদসহ ১৪৩.৭৯ কোটি টাকার অবৈধ মুনাফা আদায়েরও নির্দেশ দিয়েছে।
সেবির পূর্ণকালীন সদস্য অমরজিৎ সিং জানিয়েছেন, এই অপরাধটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং শিল্প পর্যায়ে পরিচালিত ছিল, যা বাজারের স্বচ্ছতাকে সরাসরি আঘাত করেছে। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।