হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম ফিচারে বিপদ? সাইবার জালিয়াতির আশঙ্কায় কড়া নজরদারি কেন্দ্রের

ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ সম্প্রতি তাদের প্ল্যাটফর্মে ‘ইউজারনেম রিজার্ভেশন’ ফিচারটি চালু করেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে এখন থেকে মোবাইল নম্বর শেয়ার না করেই অন্য কারও সঙ্গে চ্যাট করা সম্ভব। তবে এই ফিচারটি চালু হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাইবার নিরাপত্তা এবং অনলাইন জালিয়াতির আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় সরকার ফিচারটির প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন চিন্তিত সরকার? ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই ফিচারটি আনা হয়েছে বলে হোয়াটসঅ্যাপ দাবি করলেও, সরকার এর উল্টো পিঠ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ইউজারনেম ফিচারের মূল ঝুঁকিসমূহ হলো:

  • অপব্যবহারের আশঙ্কা: ইউজারনেম ফিচার ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে সহজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সাইবার স্ক্যাম চালানো সম্ভব।

  • সহজে শনাক্ত করা কঠিন: ইউজারনেম বারবার পরিবর্তনের সুযোগ থাকায়, কোনো অপরাধী সহজেই নিজের পরিচয় বদলে ফেলতে পারবে, যা তাকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব করে তুলবে।

  • জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি: পরিচয় গোপন রাখার এই প্রবণতা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমান ভারতীয় আইন অনুযায়ী এই নতুন ফিচারটি মূল্যায়ন করা হবে। তদন্তে কোনো ধরণের অসংগতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার প্রমাণ মিললে মেটা (Meta)-কে শোকজ নোটিশ পাঠানো হতে পারে। সরকারের মতে, সাইবার জালিয়াতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিরাপত্তার সাথে কোনো ধরণের আপস করা সম্ভব নয়।

ফিচারটি কীভাবে কাজ করে? ইউজারনেম ফিচারটি চালু হলেও, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য মোবাইল নম্বর আগের মতোই বাধ্যতামূলক থাকবে। ইউজারনেম শুধুমাত্র যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হবে। টেলিগ্রামের মতো অ্যাপে আগেই এই সুবিধা ছিল, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপের বিশাল ব্যবহারকারী বেস বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।

এখন দেখার বিষয়, মেটা তাদের এই নতুন ফিচারটি চালু রাখার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্বেগ কীভাবে প্রশমিত করে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফিচারটি ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *