খামেনেই-এর জানাজা ঘিরে রণক্ষেত্র ইরান! তিন বাহিনীর যুদ্ধকালীন সতর্কতা, মুজতবার উপস্থিতি নিয়ে সংশয়

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই-এর প্রয়াণের পর তাঁর শেষ বিদায় পর্বকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ এখন যুদ্ধকালীন সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে ইরান তার তিন সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। ৮ জুলাই মাশহাদে তাঁকে সমাহিত করা হবে।
সামরিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির তুঙ্গে ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, দেশজুড়ে আকাশসীমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিমান বাহিনীকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। স্থলবাহিনী সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন থাকবে। ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে এমন বিশাল এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেকোনো প্রকার হুমকি এড়াতে সেনাবাহিনী আকাশপথের ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখবে।
শিবির থেকে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল—সবই তৈরি আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও তীর্থযাত্রার জন্য তেহরান ও সংলগ্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চারটি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি অতিথিদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালও তৈরি রেখেছে সেনাবাহিনী, যাতে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।
মুজতবা খামেনেই কি জানাজায় যোগ দেবেন? গোটা ইরান এখন একটি বড় প্রশ্নের অপেক্ষায়—সর্বোচ্চ নেতার পুত্র মুজতবা খামেনেই কি তাঁর পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকবেন? মার্কিন হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মুজতবাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে খামেনেই-এর শেষ যাত্রায় তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। সামরিক বাহিনীর এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি মূলত সেই ইঙ্গিতই বহন করছে?
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল একজন নেতার শেষ বিদায় নয়, বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পরীক্ষার এক মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে।