‘আমাদের পড়াশোনা নিয়ে ভাবুন!’ পাকিস্তানি সহপাঠীর সঙ্গে ভিডিও শেয়ার করে ট্রোলারদের কড়া ধমক দিলেন ভারতীয় ছাত্রী

সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের কোনো সীমানা থাকে না, কিন্তু মাঝে মাঝে সেই বন্ধুত্বের বার্তাও বিদ্বেষের শিকার হয়। সম্প্রতি কাজাখস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়তে যাওয়া এক ভারতীয় ছাত্রী ঠিক এই অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হলেন। তাঁর পাকিস্তানি সহপাঠীর সঙ্গে একটি সাধারণ রিল ভিডিও শেয়ার করতেই একদল নেটিজেনের রোষানলে পড়লেন তিনি।
কী ঘটেছিল? মেডিক্যাল শিক্ষার্থী শভনী উকেশ তাঁর পাকিস্তানি সহপাঠী হামজাকে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওর মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ভিডিওটি ছিল একেবারেই হালকা-ফুলকা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। কিন্তু পোস্ট করতেই মন্তব্যের ঘরে শুরু হয় অশালীন আক্রমণ। কেউ এটিকে রাজনৈতিক মোড় দেওয়ার চেষ্টা করেন, কেউ বা আবার ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে ‘লাভ জেহাদ’-এর মতো আপত্তিকর তকমাও দিয়ে বসেন। এমনকি শভনীর চরিত্র এবং শিক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
ট্রোলারদের কড়া জবাব: সাধারণত এ ধরনের ক্ষেত্রে অনেকে পোস্ট ডিলিট করে দেন বা মন্তব্য বন্ধ করে দেন। কিন্তু শভনী পিছু হটেননি। উল্টো ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তিনি এক হাত নিয়ে লিখেছেন, “ভাই, নিজের এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন্তব্য নিজের কাছেই রাখুন। আমরা বিদেশে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে এসেছি। আপনাদের মতো মানুষের অযথা মন্তব্যে সময় নষ্ট করার বদলে নিজের ক্যারিয়ার গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
শান্তির বার্তা: পরে শভনী আরও একটি বিবৃতিতে বিষয়টি খোলাসা করেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই বিদেশি শিক্ষার্থী, একই ক্লাসে পড়ি। বন্ধু হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। আমরা এখানে শান্তিতে পড়াশোনা করছি এবং সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শভনীর এই পরিপক্ক আচরণ ও সাহসিকতা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ট্রোলারদের না এড়িয়ে তাদের মুখের ওপর আয়না দেখিয়ে দেওয়া শভনীর এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সাধারণ নেটিজেনরা।