প্রমাণ গোপন, ক্ষমতার অপব্যবহার! আইনজীবীকে মারধরের মামলায় বিপাকে পিএসআই

আদালতের কাছে তথ্য গোপন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে কর্ণাটক হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়লেন মাদিওয়ালা ট্রাফিক থানার এক নারী পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর (পিএসআই)। অভিযুক্ত পিএসআই পদ্মাবতী টি.বি.-কে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি তাঁর দায়ের করা আবেদনটিও খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত। অভিযোগ, এক আইনজীবীর সঙ্গে অটোরিকশা চালকের বচসা চলাকালীন পিএসআই পদ্মাবতী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযোগ, সেখানে তিনি ওই আইনজীবীকে প্রকাশ্যে মারধর ও লাথি মারেন। পুরো বিষয়টি থানায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিষয়টি হাইকোর্টে গড়ালে, আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল।

কেন জরিমানা করল আদালত? পিএসআই পদ্মাবতী হাইকোর্টে একটি আবেদন করেছিলেন নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর বাতিলের দাবিতে। কিন্তু আদালতকে তিনি জানাননি যে, ওই এফআইআরটি হাইকোর্টের নিজস্ব নির্দেশেই দায়ের করা হয়েছিল। এই তথ্য গোপন করাকে আদালত ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহার’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিচারপতি এম. নাগপ্রসন্নের একক বেঞ্চ এই আচরণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “যারা ন্যায়বিচার চান, তাঁদের স্বচ্ছ হাতে আদালতে আসা উচিত। তথ্য গোপন করে কোনো প্রতিকার পাওয়া সম্ভব নয়।” জরিমানার ১ লক্ষ টাকা ‘কর্ণাটক রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ’ (KSLSA)-এর তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কঠোর বার্তা হাইকোর্টের: হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও তথ্য গোপন করায় পিএসআই পদ্মাবতীকে দেওয়া আগের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশটি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আগের মতোই চলবে এবং তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দেওয়ার আগে হাইকোর্টে পেশ করতে হবে।

আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও এমন অনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ মহলে এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আদালত এই রায়ের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিল, বিচারের মন্দিরে কোনো প্রকার কারচুপি বা ধূর্ততা সহ্য করা হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *