‘অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া দুর্নীতি অসম্ভব’, নিয়োগ কাণ্ডে তাপস মণ্ডলের বিস্ফোরক দাবি

রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় জামিনে মুক্ত থাকা অন্যতম অভিযুক্ত তাপস মণ্ডল সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুললেন। আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি।

১৯ কোটি ৪৪ লক্ষের হিসাব ও কুন্তলের ডায়েরি
সাক্ষাৎকারে তাপস মণ্ডলের কাছে কুন্তল ঘোষের কাছে পাঠানো টাকার পরিমাণ জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কুন্তলের হাতে পৌঁছেছিল। এই বিশাল অঙ্কের টাকার লেনদেনের রেকর্ড রাখতে একটি ডায়েরি ব্যবহার করা হতো বলে জানান তিনি। তাপস বলেন, “আমি একটি ডায়েরি মেনটেইন করতাম। কুন্তল সই করে টাকা নিত। টাকা আদান-প্রদানের সময় ওই ডায়েরি সঙ্গে থাকত।”

‘কাকু’ থেকে ‘সাহেব’—টাকা পৌঁছত কার কাছে?
টাকা পৌঁছানোর শেষ গন্তব্য সম্পর্কে তাপস মণ্ডল দাবি করেন, এই অর্থ যেত ‘কালীঘাটের কাকু’ (সুজয় ভদ্র)-র কাছে। তাপসের কথায়, “সুজয় ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করেই টাকা নিতেন। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে টাকা অভিষেকের কাছেই পৌঁছাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, সুজয় ভদ্র সরাসরি অভিষেকের নাম না নিলেও তাঁকে ‘সাহেব’ বলে সম্বোধন করতেন। তাপসের অভিযোগ, “সাহেব চাপ দিচ্ছেন, টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন আটকে যাবে—এমন কথাই বলতেন তিনি।”

মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল
নিয়োগ দুর্নীতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তাপস মণ্ডল দাবি করেন, তাঁর নির্দেশ ছাড়া এই দুর্নীতি সম্ভব নয়। এমনকি, তিনি নিজে কুন্তল ঘোষের কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন।

তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ
তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে তিনি সাহায্য করেছেন বলে দাবি করলেও, তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তাপস মণ্ডল। তাঁর মতে, “তদন্তে ঘাটতি রয়েছে। অভিষেককে গ্রেফতার করতে হলে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।” তিনি এও দাবি করেন যে, রাজ্যে এমন অনেক ‘কুন্তল’ ছড়িয়ে আছে।

উল্লেখ্য: তাপস মণ্ডলের এই দাবিগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। তদন্তাধীন একটি বিষয়ে এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের প্রক্রিয়াতেই এই অভিযোগের সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারিত হবে। আপাতত এই সমস্ত মন্তব্যকে কেবলমাত্র ‘অভিযোগ’ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *