পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ জয়ের লক্ষ্য! কেসি ত্যাগীকে দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ করলেন জয়ন্ত চৌধুরী

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল আনলেন রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি) সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরী। মঙ্গলবার দলের সংসদীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রবীণ নেতা কেসি ত্যাগীকে মনোনীত করেছেন তিনি। এই নিয়োগের ফলে দলে জয়ন্ত চৌধুরীর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদে উঠে এলেন কেসি ত্যাগী।
কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ? জেডিইউ (JDU) ত্যাগ করে সম্প্রতি আরএলডি-তে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ কেসি ত্যাগী। তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলটিকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছেন জয়ন্ত চৌধুরী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
-
অভিজ্ঞতার সমন্বয়: কেসি ত্যাগী জাতীয় রাজনীতি এবং জোট রাজনীতির (Coalition Politics) একজন পোড় খাওয়া নেতা। তাঁর এই দক্ষতা দলটিকে স্থানীয় স্তর থেকে জাতীয় স্তরে বিস্তার করতে সহায়তা করবে।
-
ভোটব্যাঙ্ক ও প্রভাব: পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে কৃষিভিত্তিক রাজনীতি ও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর কেসি ত্যাগীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিরোধী ভোট বা নিজস্ব জোটের ভোট সুসংহত করতে চায় আরএলডি।
সংসদীয় বোর্ডের নতুন গঠন আরএলডি সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত এই সংসদীয় বোর্ডে চেয়ারম্যান কেসি ত্যাগী এবং সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরী ছাড়াও ১৫ জন স্থায়ী সদস্য এবং চারজন বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য রয়েছেন। দলের ফেসবুক ও ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘোষণা করে জয়ন্ত চৌধুরী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী নির্বাচনের জন্য আরএলডি এখন থেকেই রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ আরএলডি-তে যোগদানের পরপরই এত বড় দায়িত্ব পাওয়া কেসি ত্যাগীর জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বীকৃতি। একদিকে জয়ন্ত চৌধুরীর তরুণ নেতৃত্ব এবং অন্যদিকে ত্যাগীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আরএলডি উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিরোধীদের মতে, আরএলডি-র এই কৌশল পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী সমীকরণকে অনেকটা প্রভাবিত করতে পারে।