চাকরির টোপ দিয়ে দাসত্বের খাঁচায়! মুজাফফরনগরের কারখানা থেকে উদ্ধার ১৩ শ্রমিক, শিউরে ওঠার মতো অভিজ্ঞতা

ছয় মাস আগে যে ছেলেটি ভালো বেতনের আশায় ঘর ছেড়েছিল, আজ সেই শিবম যখন নিজের গ্রামে ফিরল, তখন তার শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলোই বলে দিচ্ছে সে কী ভয়াবহ নরকযন্ত্রণা সহ্য করেছে। মুজাফফরনগরের একটি ডোনা-পাট্টাল কারখানায় জিম্মি থাকা ১৩ জন শ্রমিকের মধ্যে অন্যতম এই শিবম। সম্প্রতি পুলিশের সাহসী অভিযানে তারা মুক্তি পেয়েছে।

চাকরির টোপ ও ফাঁদ উত্তরপ্রদেশের ঔরাইয়া জেলার বাসিন্দা শিবম গুরুগ্রামে দর্জির কাজ করতেন। গত ১ জানুয়ারি বাড়ি ফেরার পথে রেলস্টেশনে তার পার্স ও জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। অসহায় অবস্থায় থাকা শিবমের সঙ্গে আলাপ হয় অঙ্কিত বালিয়ান নামে এক ব্যক্তির। ভালো বেতন ও খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অঙ্কিত তাকে মুজাফফরনগরের ওই কারখানায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে শিবম বুঝতে পারে, সে দর্জির কাজ নয়, বরং বন্দি হয়েছে এক আধুনিক দাসত্বের কারখানায়।

কারখানার অন্দরের ভয়াবহ চিত্র শিবমের বর্ণনায় উঠে এসেছে এক বীভৎস বাস্তব:

  • মানবেতর জীবন: প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করানো হতো। ঘুমানোর অনুমতি মিলত মাত্র এক-দুই ঘণ্টা।

  • খাদ্য তালিকা: সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির বিনিময়ে কপালে জুটত কেবল ভুসি, লবণ আর শুকনো লাল মরিচ দিয়ে তৈরি চারটি চাপাটি। ছয় মাসে জোটেনি কোনো সবজি বা পুষ্টিকর খাবার।

  • নির্মম নির্যাতন: সামান্য প্রতিবাদ করলেই বেল্ট, মেশিনের তার এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন।

  • মৃত্যুর আতঙ্ক: শিবম জানায়, পালানোর চেষ্টায় ধরা পড়া দুই শ্রমিককে এমনভাবে পেটানো হয়েছিল যে, তারা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। মালিকরা শ্রমিকদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালাত।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান শিবমের নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা-মা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, পোস্টার লাগিয়েছেন, তন্ন তন্ন করে খুঁজেছেন সন্তানকে। অবশেষে একজন শ্রমিক কারখানা থেকে কোনোমতে পালিয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনার পর্দা ফাঁস হয়। পুলিশের অভিযানে ১৩ জন শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বিচার দাবি পরিবারের বর্তমানে শিবম বাড়ি ফিরে এলেও সেই বিভীষিকা তাকে এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারখানার মালিক ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনা ফের একবার আধুনিক সমাজব্যবস্থায় ‘বন্ধন শ্রম’ বা দাসের প্রথার মতো কলঙ্কজনক অধ্যায়কে সামনে নিয়ে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *