ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে বড় আপডেট! সুপ্রিম কোর্টে মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার

দেশে পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর কর্মসূচি (E20) নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়া নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে বড় মন্তব্য করল। কেন্দ্র জানিয়েছে, এই কর্মসূচিটি এখনও পরীক্ষার স্তরে রয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যেই এর ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র ও বিপিসিএল

কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-এর দায়ের করা মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। হাইকোর্ট তার নির্দেশে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইথানল বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলেছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় সরকারি তেল সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ইথানল নীতির স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য

শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমনি জানান, সরকার পরিবেশবান্ধব জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিকে এগোচ্ছে। তবে E20 ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামটি এখন সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, আগামী বছরেই এই নীতির সাফল্য ও কার্যকারিতা নিয়ে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।

কী এই E20 জ্বালানি?

উল্লেখ্য, E20 জ্বালানি বলতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রলের মিশ্রণকে বোঝায়। মোদী সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবেশদূষণ কমাতে এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে এই মিশ্রণ ব্যবহার বাড়ানো। এতদিন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি নিয়ে নানা সংশয় থাকলেও, সরকার এবার স্পষ্ট করল যে, সব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কর্ণাটক হাইকোর্ট এর আগে তেল সংস্থাগুলোকে (OMCs) দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির (LTOA) আওতায় উৎপাদনকারী প্ল্যান্টগুলোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ওই রায়ের ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *