ভুয়া এফডি-র মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ: ৫০৪ কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে সিবিআই-এর বড় পদক্ষেপ

সরকারি তহবিল তছরুপের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। হরিয়ানা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৫০৪ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দুই উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই।
কাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে? গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের তৎকালীন এরিয়া হেড শামিন দার এবং এ ইউ স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকের মোহালি শাখার তৎকালীন ম্যানেজার চরণজিৎ সিং রান্ধাওয়া।
কীভাবে চলত এই জালিয়াতি? তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, হরিয়ানা সরকারের আটটি দপ্তরের উদ্বৃত্ত সরকারি তহবিলকে টার্গেট করত এই চক্র। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের চণ্ডীগড়ের সেক্টর-৩২ শাখাকে কেন্দ্র করে এই বিশাল আর্থিক অনিয়ম চালানো হতো। কৌশলটি ছিল বেশ নিখুঁত:
-
সরকারি তহবিলের টাকা ভুয়া ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ (FD)-এ বিনিয়োগ দেখানো হতো।
-
এরপর ভুয়া ডেবিট নোট এবং শেল কোম্পানির (Shell Company) মাধ্যমে সেই বিপুল অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হতো।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে হরিয়ানা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো এই মামলার তদন্ত শুরু করলেও, পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের অনুরোধে মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই সূত্রে খবর, এখন পর্যন্ত এই কেলেঙ্কারিতে ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মচারী, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি মিলিয়ে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুই কর্মকর্তাকে পাঞ্চকুলার বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির করানো হবে। সিবিআই-এর দাবি, এই জালিয়াতির মূল শিকড় অনেক গভীরে এবং সরকারি অর্থের প্রতিটি পাই পয়সা কোথায় গেল, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
অন্যান্য কেলেঙ্কারিতেও তদন্ত উল্লেখ্য, কেবল হরিয়ানাই নয়, সিবিআই একইসঙ্গে চণ্ডীগড় স্মার্ট সিটি লিমিটেড (CSCL) এবং ‘ক্রেস্ট’ (CREST) কেলেঙ্কারিরও তদন্ত করছে। সেই মামলাগুলোতেও বেশ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও সরকারি আধিকারিকের নাম উঠে এসেছে। সরকারি তহবিল লুঠের এই একের পর এক ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।