স্মৃতিসৌধের মাটি কপালে মাখছেন সমর্থকরা! ভোজপুরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন

যে স্থানে ভারত ভূষণ তিওয়ারি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই স্থানটি এখন তাঁর অনুরাগী ও স্থানীয়দের কাছে এক আবেগঘন শ্রদ্ধার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভক্তরা সেই স্থানের পবিত্র মাটি কপালে মেখে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। এই আবেগকে সম্মান জানিয়ে সেখানে একটি স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনের কড়া হস্তক্ষেপে এখন তা বন্ধ রয়েছে।

স্মৃতিসৌধ ঘিরে আবেগের স্রোত উত্তরাখণ্ড মঠের স্বামী আনন্দ স্বরূপ মহারাজের অর্থায়নে এই স্মৃতিসৌধটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি মার্বেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পরবর্তীতে ভারত ভূষণ তিওয়ারির একটি পূর্ণাঙ্গ মূর্তি বসানোর প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা প্রশাসনের নজরে আসে এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের আপত্তি ও কারণ প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই বাধার পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • সরকারি জমির মালিকানা: শাহপুরের ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা আনন্দ প্রকাশ জানান, যে জমিতে স্মৃতিসৌধটি গড়ার চেষ্টা চলছে তা সরকারি খাস জমি। নিয়ম অনুযায়ী, যথাযথ ‘অনাপত্তি সনদ’ (NOC) ছাড়া সরকারি জমিতে কোনো স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা আইনত দণ্ডনীয়।

  • জমি নিয়ে বিবাদ: কেবল সরকারি জমি নয়, পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিগত জমির মালিকদের পক্ষ থেকেও এই নির্মাণকাজে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, কোনো স্থাপনা করতে হলে তা সঠিক নিয়ম মেনে ও রাস্তার প্রসারণ মাথায় রেখেই করা উচিত।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ও অসন্তোষ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমর্থকদের অভিযোগ, সরকারি জমিতে অতীতেও অনেক স্মৃতিসৌধ বা স্থাপনা নির্মিত হয়েছে, অথচ ভারত ভূষণ তিওয়ারির ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্বিমুখী ও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তাঁদের দাবি, একজন প্রয়াত ব্যক্তিত্বের প্রতি এই অসম্মান মেনে নেওয়া যায় না।

বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসন্ন দিনগুলোতে শোকসভা ও ব্রহ্মভোজ অনুষ্ঠানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *