পুলিশের মারে জখম তিন যুবক: গোরখপুরে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল প্রশাসন

উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে পুলিশি হেফাজতে তরুণদের অমানুষিক মারধরের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তিওয়ারিপুর এবং পিপরাইচ থানা এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় তিন যুবককে নির্মমভাবে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নির্যাতিত যুবকদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

থানায় তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

  • তিওয়ারিপুর থানার ঘটনা: গত ২৮ জুন জমি নিয়ে বিবাদের জেরে বিবেক যাদব ওরফে চন্দন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, সারারাত ধরে তাকে লাঠি দিয়ে অকথ্যভাবে পেটানো হয়। মারধরের চোটে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে শান্তিভঙ্গকারী হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা সাজানো হয়। বর্তমানে তিনি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

  • পিপরাইচ থানার ঘটনা: মাহমুদাবাদ গ্রামে পারিবারিক বিবাদের জেরে পুলিশ শাহরুখ এবং তার শ্যালক আব্দুল রহিমকে থানায় নিয়ে যায়। শাহরুখের অভিযোগ, থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। আব্দুল রহিম বিআরডি মেডিকেল কলেজে বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনের ভূমিকা ঘটনাটি সামনে আসতেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সমাজবাদী পার্টি। দলের জেলা সভাপতি ব্রিজেশ গৌতমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এসএসপি ডঃ কৌস্তুভের সঙ্গে দেখা করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তীব্র জনরোষের মুখে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। এসপি সিটি নিমিশ পাটিল জানিয়েছেন:

  • তিওয়ারিপুর মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি সার্কেল অফিসারের হাতে দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারদের বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পিপরাইচ মামলায় ইতিমধ্যেই এক কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই ধরনের ‘বর্বরোচিত’ আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোরখপুর পুলিশ এহেন পরিস্থিতিতে দোষীদের বিরুদ্ধে সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *