মন্দিরের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন: চম্পত রায়ের ভূমিকা নিয়ে সরব সাধু সমাজ, তদন্তের দাবি

অযোধ্যার রাম মন্দিরে নৈবেদ্য চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাম মন্দির ট্রাস্টের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন হরিদ্বারের সাধু-সন্তরা। ঘটনার দায়ভার শুধুমাত্র অধস্তন কর্মচারী বা সহযোগীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছেন তাঁরা। সাধুদের মতে, এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না চম্পত রায়।

সাধুদের অভিযোগ ও প্রশ্ন শ্রী পঞ্চায়েতি উদাসীন বড় আখাড়ার মহন্ত সূর্যংশ মুনি মহারাজ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “চম্পত রায় কি দায় এড়াতে পারেন? চুরি যখন হচ্ছিল, তখন তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করছিলেন না কেন? আজ দোষ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা নৈতিক নয়। আপনি দায়িত্বশীল পদে থাকলে, আপনার অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায় আপনারই।”

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো বড় সংস্থায় চুরি ঘটে, তবে প্রধান ব্যক্তি দায় এড়িয়ে কর্মচারীদের ওপর দোষ চাপিয়ে রেহাই পেতে পারেন না। এমন আচরণকে সাধুরা ‘দায়িত্বহীনতা’ হিসেবেই দেখছেন।

ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাম মন্দির ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন সাধুরা। মহন্ত সূর্যংশ মুনির পরামর্শ, মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ট্রাস্টে অসাধু বা বাইরের ব্যক্তিদের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও বিশ্বাসী সাধুদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। সাধুদের একাংশের অভিযোগ, মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের আরও বেশি সতর্ক ও দায়বদ্ধ হওয়া উচিত ছিল।

তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তবে সাধু সমাজের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, চম্পত রায়ের কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখা হোক। মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভক্তদের আস্থা অটুট রাখতে অবিলম্বে এই চুরির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।

রাম মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পাল্টা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে হরিদ্বারের সাধু সমাজের এই কঠোর অবস্থানে রাম মন্দির পরিচালনা নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *