‘প্রেমপত্র এল, জবাব দেব!’ আইনি প্যাঁচে কুণাল ঘোষ, ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি কি অধরা?

একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দুই শিবিরের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আইনি জটিলতায় ফেঁসে গেলেন কালীঘাট শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা না করে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে রাস্তা মাপজোক করার অভিযোগে রাজ্যের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সাংসদ দোলা সেন এবং তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ।

কেন এই এফআইআর? গত রবিবার (২৮ জুন) দুপুর ২টা ৫০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ধর্মতলার বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে তৃণমূলের এই তিন নেতা এবং তাদের সহযোগীরা ডেকরেটর্সের লোক নিয়ে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ তৈরির জন্য জায়গা মাপজোক শুরু করেন। পুলিশের অভিযোগ, ব্যস্ততম এলাকায় এভাবে রাস্তা আটকে মাপজোক করার ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। কোনো পূর্বানুমতি না নিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকারি কাজে বাধা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ২৮৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

লালবাজারের কড়া বার্তা এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই লালবাজার থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ধর্মতলার মতো ব্যস্ত জায়গায় রাস্তা আটকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে না। কালীঘাট এবং ঋতব্রত—উভয় শিবিরকেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সাফ কথা, জনস্বার্থ এবং যান চলাচল সচল রাখা তাদের কাছে অগ্রাধিকার।

কী বলছেন কুণাল ঘোষ? পুলিশের দায়ের করা এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় বরাবরের মতোই স্বমেজাজে কুণাল ঘোষ বলেন, “রবিবার বৃষ্টির দুপুর ছিল, গাড়িও বিশেষ ছিল না। তারপরও কেউ এফআইআর করে? পুলিশি নোটিস বা প্রেমপত্র এলে অবশ্যই তার উপযুক্ত জবাব দেব।” তার দাবি, তারা কেবল প্রস্তুতির জন্য গিয়েছিলেন, কারো কোনো অসুবিধা করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না।

রাজনৈতিক চাপানউতোর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “আগে অনুমতি নিন, কোথায় জায়গা দেওয়া যায় তা সরকার বিবেচনা করবে। ব্রিগেডে যাওয়ার সাহস নেই, তাই রাস্তা আটকে গায়ের জোরে রাজনীতি করতে চাইছে।”

এখন দেখার বিষয়, একদিকে পুলিশের অনুমতি না পাওয়া এবং অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে একুশে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূল আদৌ কোনো সভা করতে পারে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *