তৃণমূল বিধায়কের শংসাপত্র নিয়ে অভিযোগের পরেই বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলা! কোচবিহারে তীব্র চাঞ্চল্য

কোচবিহারের সিতাইয়ে বিজেপি প্রার্থী ও গ্রেটার নেতা আশুতোষ বর্মার বাড়িতে গভীর রাতে হামলার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় এই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ঠিক কী ঘটেছিল? ঘটনাটি সোমবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ সিতাই থানার কেশরীবাড়ি গ্রামের। আশুতোষ বর্মার অভিযোগ, তাঁকে খুনের উদ্দেশ্যেই দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে এসেছিল। তিনি জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন। সোমবার বিকেলে তাদেরই একজন ফোন করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার নাম করে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তারা বাড়িতে পৌঁছলে তাদের আচরণ সন্দেহজনক ঠেকে। খবর দেওয়া হয় পরিচিত এক ব্যক্তিকে। এরই মধ্যে আশুতোষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাদের তল্লাশি চালালে তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপরই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার জনকেই গ্রেফতার করে।

রাজনৈতিক যোগসূত্রের জল্পনা এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবারই আশুতোষ বর্মা দিনহাটার মহকুমাশাসকের দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, সিতাইয়ের তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের তফসিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্রটি ভুয়ো এবং এই শংসাপত্রের ভিত্তিতেই তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। অভিযোগ দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটায়, রাজনৈতিক মহলে সন্দেহের দানা বাঁধছে—এটি কি কেবলই কাকতালীয়, নাকি সুপরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত?

আইনি লড়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনেই এই শংসাপত্র নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না মেলায়, ফল ঘোষণার পর আশুতোষ বর্মা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই আইনি লড়াই বর্তমানে বিচারাধীন।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে তুলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। গুলির উৎস কী, ধৃতদের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এই হামলার পেছনে অন্য কারো প্ররোচনা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *