পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন বৈঠক? জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় বার্তা দিলেন পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পর্দার আড়ালে বা ‘গোপন’ আলোচনার কোনো অবকাশ নেই। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘ট্র্যাক-২’ বৈঠক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া জল্পনার প্রেক্ষিতে এমনটাই স্পষ্ট করে দিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি।

বৈঠকে সরকারি সম্পৃক্ততা নেই

কলম্বোতে আয়োজিত ওই বৈঠককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিক্রম মিসরি বলেন, “আমি প্রতিবেদনটি দেখেছি। তবে ভারত সরকারের সঙ্গে এই বৈঠকের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা বা সমর্থন নেই।”

তিনি আরও যোগ করেন, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় নাগরিকরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ক্ষমতায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের ব্যক্তিগত মতামতকে কোনোভাবেই ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। এমনকি ওই বৈঠকে উত্থাপিত কোনো বক্তব্যের সঙ্গেই ভারত সরকার একমত নয় বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র সচিব।

কেন তৈরি হয়েছিল জল্পনা?

২০২৫ সালের মে মাস থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনা (ট্র্যাক-১) কার্যত থমকে আছে। এমতাবস্থায়, কলম্বোর একটি বৈঠকে ভারত ও পাকিস্তানের প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নতুন করে জল্পনার জন্ম দেয়।

  • বৈঠকে কারা ছিলেন? আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইন্সটিটিউটের ওই বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে আরএসএস নেতা রাম মাধব, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম নারাভানে ও প্রাক্তন কূটনীতিক রুচি ঘনশ্যাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রাক্তন আইএসআই কর্মকর্তা আলী খান পাতৌদি ও প্রাক্তন মন্ত্রী শেরি রহমান।

  • রাম মাধবের প্রতিক্রিয়া: এই বৈঠকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে আরএসএস নেতা রাম মাধব আগেই বিষয়টি অহেতুক উত্থাপন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ভারতের অবস্থান অটল

পররাষ্ট্র সচিবের এই বিবৃতির মাধ্যমে এটি পরিষ্কার যে, ভারত বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ কূটনীতিতে আগ্রহী নয়। ভারত সরকারের কাছে এই ধরণের বেসরকারি বৈঠকের কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই বলেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সীমান্ত সুরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতের কঠোর অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত। ফলে, যতক্ষণ না পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গঠনমূলক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা যে ক্ষীণ, পররাষ্ট্র সচিবের এই বক্তব্য সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *