হরমুজে যুদ্ধের দামামা! কেন ইরান-মার্কিন চুক্তির ‘৫ নং ধারা’ এখন বিশ্ব অর্থনীতির গলার কাঁটা?

বিশ্বের তেল বাণিজ্যের লাইফলাইন বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন ফের বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত কেন্দ্রে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত ১৭ই জুনে সম্পাদিত চুক্তির ৫ নং ধারাটি ঘিরে দুই দেশের নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। হরমুজের নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজের নিরাপত্তার প্রশ্নে উভয় দেশই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করছে।

বিবাদের মূল কারণ: চুক্তির ৫ নং ধারা

চুক্তির ৫ নং ধারা অনুযায়ী, ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ৬০ দিনের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্র মাইন বা অন্যান্য সামরিক বাধা সরিয়ে নেবে। কিন্তু বাধে বিপত্তি—প্রণালীর ‘নিয়ন্ত্রণ’ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চরম মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

  • ইরানের অবস্থান: তেহরানের দাবি, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও নজরদারির সম্পূর্ণ দায়ভার তাদেরই। যেকোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ তারা সহ্য করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ওয়াশিংটন চায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (IMO) ও ওমানের মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণে নৌ-চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে। ইরান একে তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে।

বাণিজ্য ও সুরক্ষায় প্রভাব

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার ঘটনা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন হামলার পর জাহাজের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমেছে। বুধবার যেখানে ৭০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করেছিল, শনিবারে তা ৪০-এ নেমে এসেছে। ‘এভার লাভলি’ ও ‘কিকু’-র মতো জাহাজে হামলার ঘটনা জাহাজ কোম্পানিগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আইআরজিসি (IRGC)-এর পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত উত্তর সমুদ্রপথ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের চেইনকে ব্যাহত করছে।

যুদ্ধ না কি শান্তি আলোচনা?

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে হরমুজের বিকল্প একটি সমুদ্রপথ তৈরির চেষ্টা করছে, যা ইরানকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই বর্তমানে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চাইছে। চলমান অস্থিরতা সত্ত্বেও কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই প্রবাহিত হয়। ফলে হরমুজের এই উত্তেজনা আগামী কয়েকদিনে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর।

হরমুজ প্রণালীর এই পরিস্থিতি কি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে? আপনার অভিমত নিচে কমেন্ট করে জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *