বঙ্গে কি শেষ হচ্ছে সিন্ডিকেট রাজ? বিধানসভায় পেশ ঐতিহাসিক ‘গুন্ডাদমন বিল’, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে সোমবার বিধানসভায় পেশ হলো ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। রাজ্য রাজনীতিতে যা ‘গুন্ডাদমন বিল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এই বিলটি পেশ করেন।
কেন এই বিল? কী লক্ষ্য? রাজ্যজুড়ে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং দুর্নীতির যে অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে উঠছে, তা নির্মূল করাই এই বিলের মূল লক্ষ্য। সরকারের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে রাজ্যে আইনের শাসন সুনিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়কদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজ্যে এমন একটি কড়া আইন প্রয়োজন, যা অসামাজিক কার্যকলাপ রুখতে পারবে।
বিলের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
-
দুর্নীতি ও তোলাবাজি রুখতে: রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে যে সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ রয়েছে, তা রুখতে এই বিল বিশেষ ভূমিকা নেবে।
-
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে এই বিলে বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
-
জননিরাপত্তা: নাম অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র গুণ্ডাদমন নয়, রাজ্যের সার্বিক পাবলিক সেফটি বা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই বিল পেশের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের বর্তমান সরকার দুর্নীতি দমনে আপসহীন মনোভাব নিয়েই এই বিল এনেছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এই বিলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের মতে, যদি এই আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়, তবে বাংলায় অপরাধের গ্রাফ নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বিধানসভায় এই বিলটি পেশ হওয়ার পর এখন দেখার বিষয়, বিরোধী পক্ষ এই বিলের কোন কোন ধারার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং সরকার কীভাবে এর প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করে। আপাতত রাজ্যের নজর এখন বিধানসভার আগামী অধিবেশনের ওপর।