কেতন আগরওয়াল খুনে নতুন মোড়! বচসা, পাসপোর্ট চুরি— ক্যাব চালকের বিস্ফোরক বয়ানে ফাঁস সিয়ার কারসাজি

পুণের নামী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার প্রধান সাক্ষী হিসেবে উঠে এসেছেন এক ক্যাবচালক, যাঁর দাবি অনুযায়ী, বিয়ের আগে কেতনকে আটকাতে ও বিদেশযাত্রা বানচাল করতে সিয়া সুপরিকল্পিতভাবে পাসপোর্টের ওপর কারসাজি করেছিলেন।
ক্যাব চালকের বিস্ফোরক বয়ান: বৈভব যাদব নামে ওই ক্যাবচালক জানিয়েছেন, পুণে থেকে মুম্বই বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে পুরো সফরের সময় সিয়ার আচরণ ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। খালাপুরের একটি ফুড মলে বিরতির সময়, মোবাইল আনার অজুহাতে সিয়া একা গাড়ির কাছে ফেরেন। চালকের দাবি, ওই সময় থেকেই রহস্যজনকভাবে কেতনের পাসপোর্ট নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে বিমানবন্দরে পৌঁছে পাসপোর্ট খুঁজে না পাওয়ায় কেতনের বালির প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয় পরিবার।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, সিয়া কেবল পাসপোর্টটি সরাননি, বরং সেটি ফুড মলের মহিলাদের শৌচাগারে ফেলে দিয়ে এসেছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, বিয়ের পরিকল্পনা বানচাল করা এবং কেতনকে বিদেশযাত্রা থেকে আটকানোর উদ্দেশ্যেই এই কাজ করেছিলেন সিয়া। পুলিশ খুব শীঘ্রই ওই ফুড মলে গিয়ে তল্লাশি চালাবে।
গোপন সম্পর্কের জালে খুন: তদন্তে জানা গেছে, বাগদত্তার আড়ালে সিয়া এক বছর ধরে ব্যবসায়ী চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। পুলিশি নথিতে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য— খুনের আগে মাত্র ৬ মাসে সিয়া ও চেতন ২,০০৪ বার ফোনে কথা বলেছেন, যার মোট সময়কাল ২৩৮ ঘণ্টা। লোহগড় দুর্গের ৪০০ ফুট খাদ থেকে কেতনের দেহ উদ্ধারের পর, সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার ছক বিয়ের ঠিক আগেই কষা হয়েছিল।
বর্তমানে সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। একের পর এক তথ্যের ঘনঘটায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য ক্রমশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।