পিলিভিতে গর্জে উঠলেন যোগী! ‘কংগ্রেসের পাপেই বাংলাদেশের সৃষ্টি, জিন্নাহর অপেক্ষায় বাঁচত লক্ষ প্রাণ’

উত্তরপ্রদেশের পিলিভিতে এক জনসভা থেকে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি (সপা)-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করার পাশাপাশি, দেশের ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনীতি নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
দেশভাগের জন্য দায়ী কংগ্রেসের ‘পাপ’
দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী যোগী দাবি করেন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সৃষ্টির কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সৃষ্টি কংগ্রেস পার্টির কৃত পাপের ফল। পাকিস্তান কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভের এক দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি ছিল। মানুষ যদি একটু অপেক্ষা করত, তাহলে জিন্নাহ স্বাভাবিকভাবে মারা যেতেন এবং দেশভাগ হতো না।” তাঁর মতে, কংগ্রেসের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে এবং অসংখ্য হিন্দুর রক্ত ঝরেছে।
তোষণের রাজনীতি নিয়ে তোপ
সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করে যোগী বলেন, তাদের কাছে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন গৌণ। তিনি অভিযোগ করেন, “দেশভাগের ভয়াবহতার পরেও সপা শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তোষণে ব্যস্ত ছিল। তারা সর্বস্ব হারানো হিন্দু, শিখ ও জৈনদের দুর্দশাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।”
‘কাট্টা বনাম ব্রহ্মোস’
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি তুলে ধরতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সমাজবাদী পার্টির আমলে যারা অবৈধ ‘কাট্টা’ বা দেশি পিস্তল তৈরি করত, আজ আমাদের ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের আমলে সেখানে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি সপা নেতাদের জীবনযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “তাদের নেতারা দুপুর ১২টায় ঘুম থেকে ওঠেন এবং বিকেল ৫টায় জিমে যান। চারবার ক্ষমতায় থেকেও তারা উন্নয়নের সময় পাননি।”
‘নতুন উত্তরপ্রদেশ’-এর প্রতিশ্রুতি
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর সুফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে যোগী জানান, সিএএ এখন বাস্তবতা এবং শরণার্থীরা তার সুফল পাচ্ছেন। বিরোধী দলগুলো এর বিরোধিতা করলেও মানুষ আজ তা মেনে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মানুষ ‘সাইকেল’ (সপা-র নির্বাচনী প্রতীক)-কে পুরোপুরি পাংচার করে দিয়েছে। আজকের নতুন উত্তরপ্রদেশে কোনো কারফিউ নেই, কোনো দাঙ্গা নেই; সবকিছু শান্তিপূর্ণ।”
পিলিভিতে এই বিপুল বিনিয়োগ ও প্রকল্পের ঘোষণা বিজেপির উন্নয়নমুখী এজেন্ডাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।