‘চাপ না ন্যায়বিচার?’ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পরীক্ষা’য় ফেলে হুঁশিয়ারি কুণাল ঘোষের!

তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এবার এই ঘটনায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করল ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের (BJMC) দক্ষিণ কলকাতা শাখা। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আনোয়ার খান ও ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সামস ইকবালও। এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

শনিবার সকালে এক বিস্ফোরক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য, “আজ বিকেল ৫টায় পরীক্ষা। যদি আজ বিকেলে ফিরহাদ হাকিম কিছু কাউন্সিলরকে নিয়ে কোনো কর্মসূচিতে যান, তাহলে প্রমাণ হবে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় তারাতলার নথি নিয়ে যা বলেছিলেন, তা কেবল চাপ সৃষ্টির জন্য। আর যদি ফিরহাদ হাকিম গ্রেফতার হন, তাহলে প্রমাণ হবে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি ছিল ন্যায়বিচারের স্বার্থে।”

ফিরহাদের বিরুদ্ধে বিজেএমসি-র অভিযোগ:

বিজেএমসি-র দাবি, তারাতলার এই ঘটনা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং বেআইনি নির্মাণের ফলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। এই বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম এবং ওই দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করে তাঁদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তুলেছে বিজেএমসি।

ফিরহাদ হাকিমের সাফাই:

গোটা বিষয়টিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি আগেই স্পষ্ট করেছেন, কোনো নির্মাণের নকশা বা প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে মেয়রের কোনো এক্তিয়ার থাকে না। বিল্ডিং বিভাগ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে, সেখানে মেয়রের ব্যক্তিগত সইয়ের কোনো ভূমিকা নেই।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারি চেয়ে সওয়াল করেছেন অগ্নিমিত্রা পল ও দিলীপ ঘোষের মতো বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও কুণাল ঘোষ নিজের বক্তব্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বলেছেন, “ববিদার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। সই করলেই তা অপরাধ—আমি সেটা বিশ্বাস করি না। কিন্তু খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভার ভাষণের প্রেক্ষিতেই আজ প্রশ্নটা উঠছে।”

তারাতলার এই ঘটনায় প্রোমোটার আসগরের মৃত্যু এবং তার সাথে প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্রের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এখন দেখার, বিকেল ৫টার এই ‘পরীক্ষা’য় কী মোড় নেয় রাজ্যের রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *