অভ্যন্তরীণ কোন্দল নাকি অন্য কিছু? পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মারা গেল লস্করের ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী

পাকিস্তানে ফের লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। রহস্যজনক পরিস্থিতিতে পর পর প্রাণ হারাল নিষিদ্ধ এই সন্ত্রাসী সংগঠনের তিন কুখ্যাত সদস্য—গাজী মুমতাজ, মোহাম্মদ খুজাইমা কাসিম এবং খালিদ বশির। এই মৃত্যুগুলোকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

কীভাবে মৃত্যু হলো এই সন্ত্রাসীদের? প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুগুলো অত্যন্ত ধোঁয়াশাচ্ছন্ন:

  • গাজী মুমতাজ: লস্করের এই শীর্ষ সদস্যকে রহস্যজনক অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে। আপার দিরের বাসিন্দা এই সন্ত্রাসীর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

  • মোহাম্মদ খুজাইমা কাসিম: লস্করের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ ইয়াকুবের ভাই কাসিম বাহাওয়ালপুরে একটি ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

  • খালিদ বশির: সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ এই সদস্যও রহস্যজনক পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সন্ত্রাসী সংগঠনের অন্দরে আতঙ্কের পরিবেশ: লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারদের এহেন ‘রহস্যমৃত্যু’ নতুন কিছু নয়। এর আগেও হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এভাবে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। শেখ ইউসুফ আফ্রিদি, বিলাল আরিফ সরাফি, আমির হামজা এবং মাওলানা কাশিফ আলীর মতো লস্কর নেতাদের মৃত্যু প্রমাণ করে যে, এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি এখন প্রবল চাপের মুখে। কেউ অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ আবার পারিবারিক কোন্দলের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

জনসমক্ষে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি: যদিও সংগঠনের একের পর এক কমান্ডার মারা যাচ্ছে, তবুও তাদের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের ভাইয়ের জানাজাতেও লস্করের রাজনৈতিক প্রক্সি সংগঠন ‘পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগ’ (PMML)-এর নেতাদের দেখা গিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসীদের ওপর পাকিস্তানের মাটিতে অদৃশ্য কোনো হাত কাজ করছে, যারা তাদের একে একে শেষ করে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মৃত্যুগুলো লস্কর-ই-তৈবার অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল অথবা বহিঃশত্রুর নিখুঁত অপারেশনের ইঙ্গিত হতে পারে। সন্ত্রাসী সংগঠনের এই টালমাটাল অবস্থা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *