পুণে হত্যাকাণ্ড: স্রেফ সামাজিক সম্মানের ভয়ে হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে হত্যা তরুণীর!

পারিবারিক সম্মান রক্ষা আর গোপন প্রেমের টান—এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে যে এমন এক হাড়হিম করা অপরাধের ছক কষা হতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি তদন্তকারী পুলিশ কর্তারা। পুণের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এখন সামনে এল এক চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেরার মুখে অভিযুক্ত তরুণী সিয়া গোয়েল যা স্বীকার করেছেন, তা শুনে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন তদন্তকারীরা।

কী ছিল ওই তরুণীর যুক্তি? গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গের উঁচু পাহাড় থেকে নিচে পড়ে মৃত্যু হয় ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের। প্রাথমিকভাবে একে দুর্ঘটনা মনে করা হলেও, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, নভেম্বরে কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। পুলিশি জেরায় সিয়া স্বীকার করেছে, পরিবারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রেমিকের কথা জানানো এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেয়ে কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়াটাই তার কাছে অনেক ‘সহজ’ মনে হয়েছিল!

অভিযুক্ত তরুণীর কথায়, “আমি যদি নিজে থেকে বিয়ে ভেঙে দিতাম, তবে সমাজে পরিবারের সম্মানহানি হতো এবং বাবা-মায়ের মনে গভীর আঘাত লাগত।” এই তথাকথিত ‘সামাজিক সম্মান’ বাঁচাতে গিয়েই প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে সে নিজের হবু স্বামীকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে হত্যার এই চরম পথ বেছে নেয়, যাতে পুরো বিষয়টি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবেই থেকে যায়।

তদন্তের পরিধি ও বর্তমান পরিস্থিতি: এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে পুণে ও লোনাভালা পুলিশ ইতিমধ্যে ৬টি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। সিয়ার বাবা-মা এবং ভাই সাহিল গোয়েলকে লোনাভালা থানায় ম্যারাথন জেরা করছেন আধিকারিকরা। সিয়া ও তার প্রেমিক চেতনের ব্যক্তিগত জীবনের নানা গোপন দিকও এখন পুলিশের স্ক্যানারে।

ঘটনাটি একদিকে যেমন নৃশংস, অন্যদিকে সিয়ার এই অদ্ভুত ‘যুক্তিবোধ’ সাধারণ মানুষকেও অবাক করেছে। পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে এই খুনের পরিকল্পনা আদতে তরুণীর বিকৃত মানসিকতারই পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন মনোবিদরা। বর্তমানে গোটা ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *