গ্রেপ্তারের সময় আসামির কোমরে দড়ি! কড়া ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের, পুলিশকে কী নির্দেশ দিলেন বিচারপতি?

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর দৃশ্য বাংলায় নতুন নয়। তবে এবার এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার জহাঙ্গির খান মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, একজন অভিযুক্তের কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে আসা কোনোভাবেই আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
মানবাধিকারের বড় প্রশ্ন সম্প্রতি ফলতা থেকে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারের পর তাকে দড়ি বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জহাঙ্গির খানের স্ত্রী কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত অপরাধী হলেও একজন মানুষের সম্মান ও মানবাধিকার আছে। পুলিশ কোনোভাবেই তা খর্ব করতে পারে না।
বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ আদালত এদিন পুলিশকে সতর্ক করে বলেছে:
-
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে দড়ি বেঁধে ঘোরানো আইনত গর্হিত অপরাধ।
-
পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার এবং মর্যাদার বিষয়টি সর্বদাই মাথায় রাখতে হবে।
-
মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে প্রশাসনকে বিরত থাকতে হবে।
কেন এই পরিস্থিতি? গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি বা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারির পর অভিযুক্তদের এভাবে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে ভবিষ্যতে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে যে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে এবং আসামিদের মর্যাদার দিকে খেয়াল রাখতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।
আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের এই রায় একদিকে যেমন পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় রাশ টানবে, তেমনই বিচারব্যবস্থায় মানবাধিকারের সুরক্ষাকে আরও সুনিশ্চিত করবে।