১,২৬৬ কোটির ব্যাঙ্ক প্রতারণা: শ্রীকান্ত ভাসির ৩.৬৬ কোটির বিমা পলিসি বাজেয়াপ্ত করল ইডি!

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর ১,২৬৬ কোটিরও বেশি বিশাল অঙ্কের প্রতারণা মামলায় ফের বড়সড় অ্যাকশনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মানি লন্ডারিং তদন্তে এবার শ্রীকান্ত ভাসির নামে বিদেশি সংস্থার দুটি বিনিয়োগ-সংযুক্ত জীবনবিমা পলিসি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাজেয়াপ্ত হওয়া এই পলিসিগুলোর মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা।
প্রতারণার কৌশল: তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ‘অ্যাডভান্টেজ ওভারসিজ প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং সংস্থার প্রোমোটার শ্রীকান্ত ভাসি ভুয়ো ‘মার্চেন্টিং ট্রেড’ এবং কৃত্রিম নথিপত্র তৈরি করে এসবিআই-এর থেকে ঋণ নিয়েছিল। অভিযোগ, সেই টাকা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। এই জালিয়াতির নেপথ্যে কিছু সরকারি কর্মীর যোগসাজশ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা।
কেন এই পদক্ষেপ? ইডি জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শ্রীকান্ত ভাসি ওই বিমা পলিসিগুলো ভাঙানোর আবেদন করেছিলেন। সেই টাকা ভারতে নিজের অ্যাকাউন্টে ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। ইডির গোয়েন্দাদের আশঙ্কা ছিল, টাকা হাতে পেলেই তিনি তা সরিয়ে ফেলবেন। সেই পথ বন্ধ করতেই তড়িঘড়ি পলিসিগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আগেও বড় বাজেয়াপ্ত: এই জালিয়াতি মামলায় ইডি এর আগেও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে দুবাইয়ে অবস্থিত প্রায় ৫১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার ৯টি স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতরে প্রায় ১১১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতিমধ্যেই সংযুক্ত করেছে ইডি।
তদন্তকারীদের দাবি, এটি কেবল শুরু। অপরাধলব্ধ অর্থের সঠিক উৎস এবং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আরও সম্পত্তির খোঁজ চালাচ্ছে ইডি। ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের এই জটিল মামলায় আরও বড় কোনো তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।