কাসবকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন, কেতন খুন মামলা লড়বেন সেই আইনজীবীই

পুনের লোহাগড় দুর্গে ২৫ বছর বয়সি তরুণ কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নড়েচড়ে বসল মহারাষ্ট্র সরকার। দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে দেখা করেন নিহতের বাবা বিশাল আগরওয়াল। বৈঠকের পরই এই মামলাকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে চালানোর পাশাপাশি, ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতো হাই-প্রোফাইল মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকামকে নিয়োগের বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মামলার প্রেক্ষাপট:
তদন্তকারী পুলিশের দাবি, আগামী নভেম্বরেই কেতন ও তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের (২০) বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, এই বিয়েতে সিয়ার অমত ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই সিয়া ও তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরী (২২) মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে খুনের ছক কষেন। গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে কেতনকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান:
কেতনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস আশ্বস্ত করে জানান, আইন ও বিচার দফতরকে উজ্জ্বল নিকামের নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রবীণ আইনজীবী উজ্জ্বল নিকাম নিজেও এই মামলায় বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব নিতে সম্মতি জানিয়েছেন।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
পুনেতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এই ঘটনাকে কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং সমাজের জন্য ‘গভীর উদ্বেগের বিষয়’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কেন এমন প্রতিশোধপরায়ণ মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।”
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রতিহিংসা ও সহিংসতা রোধে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইনের শাসন কায়েম করার পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনার সামাজিক দিকটি নিয়েও যে সরকার চিন্তিত, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার পরবর্তী আপডেট ও আইনি প্রক্রিয়ার খবরের জন্য আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের জন্য একটি প্রশ্ন: এই ধরনের মর্মান্তিক অপরাধ কমাতে সমাজ ও পরিবারের ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।