ঘূর্ণিঝড়-বিপর্যয়ে আর ওড়িশার অপেক্ষায় নয়! ২০০ জনের বিশেষ ফোর্স গড়ছে রাজ্য

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আর ভিন রাজ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে হবে না বাংলাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বড়সড় দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার এবার নিজস্ব একটি বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের পথে হাঁটছে। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরে এই পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
২০০ জনের বিশেষ ফোর্স মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্য সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ জনের একটি বিশেষ রিজার্ভ ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাহিনীটি এনডিআরএফ (NDRF)-এর আদলেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবে এবং অত্যাধুনিক উদ্ধারকাজে দক্ষ হবে। দুর্যোগের মুহূর্তে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোই এই ফোর্সের মূল লক্ষ্য।
কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ভিন রাজ্যের টিমের জন্য অপেক্ষা করার দীর্ঘসূত্রতা প্রকট হয়েছে। এই বিষয়ে সরব হয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও একটি নিজস্ব এনডিআরএফ টিম তৈরি করতে পারেনি। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানত, আর আমাদের রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য ওড়িশা থেকে আসা টিমের অপেক্ষায় থাকতে হতো। সেই পরনির্ভরশীলতা এবার কাটানোই আমাদের লক্ষ্য।”
কোথায় মোতায়েন হবে এই বাহিনী? রাজ্যের ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় এই বাহিনীকে অত্যন্ত কৌশলীভাবে সাজানো হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সুন্দরবন, কলকাতা এবং রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে এই টিম দ্রুত মোতায়েন করা হবে। এর ফলে দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।
তারাতলা কাণ্ডের জের? সম্প্রতি তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে পড়ার ঘটনার পর রাজ্য সরকার যেভাবে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখিয়েছে, তা এই বিশেষ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্তে আরও গতি দিয়েছে। বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক পরিকাঠামো ও দ্রুত উদ্ধারকাজের ওপর জোর দিয়েছেন।
বলা বাহুল্য, নিজস্ব এই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গড়ে তোলা গেলে দুর্যোগের সময় জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে থাকা ব্যবধান কমিয়ে আরও বেশি মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।