১১০০ বিঘা খাস জমির মাটি ও হাজারো মূল্যবান গাছ পাচার! নাকাশিপাড়ার ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় সরকারি খাস জমি জবরদখল, মাটি কাটার কারবার এবং হাজার হাজার মূল্যবান গাছ পাচারের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রায় ১১০০ বিঘা সরকারি জমি এবং সেখানকার কয়েক হাজার সেগুন ও মেহগনি গাছ উধাও হওয়ার ঘটনায় মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার নথিতে নাম রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
অভিযোগের বিস্তারিত: মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাসের দাবি অনুযায়ী, নাকাশিপাড়ার ২৪ নম্বর মৌজায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের (পূর্বতন ৩৪ নম্বর) পাশে অবস্থিত এই বিশাল পরিমাণ খাস জমিটি দীর্ঘদিন আগে লিজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই লিজের মেয়াদ ২০২০ সালেই উত্তীর্ণ হয়ে যায়। অভিযোগ, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে রাখা হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু মাটি পাচারই নয়, ওই খাস জমিতে থাকা কয়েক হাজার সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছেন মামলাকারীরা।
মামলায় নাম জড়াল অভিষেকের এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট ১২ জনের নাম রয়েছে। মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানান, এই ১২ জনের মধ্যে অন্যতম নাম হিসেবে উঠে এসেছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এত বড় মাপের জবরদখল ও পাচার কাজ চলল, তা নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির দিকেও আঙুল তুলেছেন তিনি।
আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থান আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকারি জমি ব্যবহার করে এই ধরনের কাজকর্ম সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই পাচারের পিছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক মদত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি এখন নদিয়ার রাজনৈতিক মহলে বড়সড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।