সিআইডি-র নজরে অভিষেকের ‘ডিজে’ মন্তব্য: ৩০ জুন বড় পরীক্ষার মুখে তৃণমূল সাংসদ

বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে ডিজে বাজানো সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে আইনি চাপে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী। এই মামলায় এবার অভিষেক ব্যানার্জীর কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) সংগ্রহের অনুমতি দিল বিধাননগর আদালত। সিআইডি-র আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ আসায় মামলার গুরুত্ব আরও বাড়ল। আগামী ৩০ জুন সাংসদকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট: নির্বাচনী প্রচারে বাগুইআটির একটি জনসভায় অভিষেক ব্যানার্জীর একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। তিনি বলেছিলেন, “৪ তারিখ মধ্যরাতের পর দেখা যাবে কে আমাকে বাঁচাতে আসে… ডিজে এত জোরে বাজাবে যে তাদের কান ঝনঝন করে উঠবে!” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগুইআটির এক বাসিন্দা বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন। পরবর্তীকালে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তদন্তে সিআইডি-র সক্রিয়তা: মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন:

  • তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ: মামলাটি হাতে পাওয়ার পর থেকেই তদন্তকারী সংস্থা সক্রিয়। অভিষেক ব্যানার্জীকে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল।

  • সোশ্যাল মিডিয়া যোগ: তদন্তকারীরা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অভিষেকের বাসভবনেও তল্লাশি চালান। সেখানে অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী অদিতি গায়েনকেও জেরা করা হয়েছে। এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেই বিতর্কিত ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

  • ভিডিওর সত্যতা: জনসভার ভাইরাল হওয়া অডিও ও ভিডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্যই আদালতের মাধ্যমে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কেন এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ? আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ভাইরাল অডিওর অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ‘ভয়েস স্যাম্পল’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক টুল। অভিষেক ব্যানার্জীর কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করে তা মূল ভিডিওর অডিওর সঙ্গে ফরেনসিক ল্যাবে মিলিয়ে দেখা হবে। এই পরীক্ষার রিপোর্ট মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই মামলাটি অভিষেক ব্যানার্জীর জন্য বর্তমানে একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩০ জুনের কণ্ঠস্বর পরীক্ষার দিকে এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহলের নজর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *