মিড-ডে মিলের মেনু নিয়ে বিতর্ক: ইসকনের তালিকায় নেই ডিম, কী বলছে কর্তৃপক্ষ?

কলকাতা পৌর এলাকার স্কুলগুলিতে মধ্যাহ্নভোজ বা মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে অর্পণ করার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন। এর পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খাবারের তালিকা ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যাচ্ছে সপ্তাহে ছয় দিনই দেওয়া হচ্ছে নিরামিষ খাবার। আর এই মেনুতেই কোথাও ডিমের উল্লেখ না থাকায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

ভাইরাল মেনু ও বিতর্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তালিকা অনুযায়ী, সপ্তাহের ছয় দিনের খাবারের রুটিনটি নিম্নরূপ:

  • সোমবার: ভাত ও সয়াবিন।

  • মঙ্গলবার: ভাত, ডাল ও আলুর চখা।

  • বুধবার: পোলাও ও পনির।

  • বৃহস্পতিবার: ভাত, কুমড়ো ও ছোলার ডাল।

  • শুক্রবার: মিক্সড ভেজিটেবল বা কাবুলি ছোলা।

  • শনিবার: খিচুড়ি ও পাপড়/মিষ্টি।

এই তালিকায় ডিমের অনুপস্থিতি দেখেই অভিভাবক ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, স্কুলের পুষ্টিকর খাদ্যে ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার কেন বাদ দেওয়া হলো? এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরেও চর্চা শুরু হয়েছে।

ইসকন ও প্রশাসনের অবস্থান: বিষয়টি নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি রাধারমন দাস স্পষ্ট করেছেন যে, তারা শুধুমাত্র এইমাত্র খাবারের তালিকাটি চূড়ান্ত করেছেন। তবে ডিমের বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো বিতর্কিত মন্তব্যে না গিয়ে জানান, সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত নিরামিষ খাবার সরবরাহ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

অপরদিকে, প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের আওতায় স্কুলগুলোতে কীভাবে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে ইসকনের সঙ্গে সরকারের প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। তবে মেনুতে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকারি মহলে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

উল্লেখ্য, মিড-ডে মিলে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দীর্ঘকাল ধরেই ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এখন ইসকনের মতো ধর্মীয় সংগঠন এই দায়িত্ব নেওয়ায় খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *