চিন থেকে ২৪টি বিধ্বংসী J-10CE যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ? বড় চুক্তির পথে তারেক রহমান

চিনের কাছ থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ। বর্তমানে চিন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সূত্রের খবর, পাকাপাকি চুক্তি না হলেও অগাস্ট মাসেই এই বড় অঙ্কের সামরিক হাতবদলের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
বিমান বাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ: ২০০৯ সাল থেকে নিজস্ব বিমান বাহিনীকে আধুনিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে থাকা চেংডু এফ-৭ (F-7) ও রাশিয়ান মিগ-২৯ বিমানগুলো বেশ পুরোনো হয়ে পড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪টি জে-১০সিই যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (BAF) সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার, যার মধ্যে বিমান ছাড়াও প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক অবকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কেন J-10CE বেছে নিল বাংলাদেশ?
-
ক্ষমতা: এটি চিনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। ৫,৬০০ কেজি পর্যন্ত অস্ত্র বহনে সক্ষম এই বিমানে রয়েছে ১১টি হার্ডপয়েন্ট।
-
প্রযুক্তি: অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স ব্যবস্থা ও শত্রুর জ্যামারকে এড়িয়ে লক্ষ্যভেদে এটি পারদর্শী।
-
সাশ্রয়ী: রাফাল বা এফ-১৬ (F-16)-এর তুলনায় এই বিমানের দাম অনেকটাই কম, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য আকর্ষণীয়।
-
গতি: ম্যাক ১.৮ গতিতে চলতে সক্ষম এই বিমান আকাশ ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে।
সীমান্ত সংলগ্ন লালমনিরহাটে বিশেষ নজর: আকর্ষণীয় বিষয় হলো, যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি বাংলাদেশ তাদের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিকে ঢেলে সাজাচ্ছে। ভারত সীমান্ত থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারতের জন্য কি কোনো চিন্তা? প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এমন আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়ায় কি উদ্বিগ্ন ভারত? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিলং-ভিত্তিক ভারতীয় বিমান বাহিনীর ‘ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড’-এর কাছে থাকা রাফাল ও সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমানগুলো জে-১০সিই-এর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ভারতের হাতে ৬০ থেকে ৭০টি আধুনিক যুদ্ধবিমান থাকায় আকাশপথে নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতেই থাকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় সীমান্তের দুই প্রান্তেই চিনা প্রযুক্তির আধিপত্য ভারতের কাছে কিছুটা কৌশলগত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: যদি অগাস্ট মাসে চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষভাগে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই যুদ্ধবিমানগুলো বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে যোগ দিতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চিনের নির্ভরতা কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।