তারাতলা ট্র্যাজেডি: গোডাউন ধসে মৃত্যুমিছিল, শহরে সমস্ত নির্মাণ কাজে জারি ‘নিষেধাজ্ঞা’

তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে নির্মীয়মাণ গোডাউনের শেড ধসে ঘটা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ শহর। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকে আছেন অন্তত ১৮ জন, যাদের সঙ্গে উদ্ধারকারীরা যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা ও কড়া নির্দেশ: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নবান্নে জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এই গোডাউনের নকশায় বড় ধরণের ত্রুটি পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী কয়েকটি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন:

  • নির্মাণ কাজ স্থগিত: আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরনিগম এলাকায় সমস্ত নির্মীয়মাণ কাজ (বিশেষত বাণিজ্যিক ভবন) বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বাধ্যতামূলক অডিট: পুরনিগমের পুরনো অনুমোদন পাওয়া সমস্ত নির্মীয়মাণ প্রকল্পের নকশা পুনরায় অডিট করা হবে।

  • নতুন কমিটি: বিভিন্ন ভবনের নকশা ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে দমকল, পুলিশ, পুরনিগম ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকরা থাকবেন।

উদ্ধারকার্যের আপডেট: দুপুর ৩টের কিছু পর থেকে সেনা ও এনডিআরএফ (NDRF) যৌথভাবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন জীবিত। নিখোঁজদের সন্ধানে রাতভর চলবে এই অভিযান। উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখতে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

বিধানসভায় বিবৃতি: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উদ্ধারকার্য ও তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় বিস্তারিত বিবৃতি দেবেন তিনি। আহতদের সুচিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিপর্যয়ে মৃতদের মধ্যে কৃষ্ণ চৌধুরী ও রোহিত চৌধুরীর নাম জানা গেলেও একজনের পরিচয় এখনও অস্পষ্ট। শহরজুড়ে এখন শুধুই আর্তনাদ আর আতঙ্কের পরিবেশ। অনিয়ম ও গাফিলতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের এই কঠোর অবস্থান কতটা সুফল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *