‘১২টা ৭ মিনিটে সব শেষ!’ তারাতলা বিপর্যয়ের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

ঠিক দুপুর ১২টা ৭ মিনিট। তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোড এলাকায় আচমকা এক বিকট শব্দ! স্থানীয়দের মনে হয়েছিল তীব্র কোনো ভূমিকম্প হচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই যখন ধুলোর আস্তরণে পুরো এলাকা ঢেকে গেল, তখন সামনে এল এক ভয়াবহ বাস্তব। নির্মীয়মাণ এক বিশালাকার গুদামঘর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে মাটিতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান: ঘটনাস্থলের পাশেই একটি চা ও গোডাউনের দায়িত্বে থাকা উজ্জ্বল কুমার জানান, “ঠিক ১২টা ৭ মিনিটে বিকট শব্দ শুনতে পাই। মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। বাইরে বেরিয়ে দেখি সবকিছু ধুলোয় ঢেকে গেছে, কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে আর্তনাদ করছেন শ্রমিকরা।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের নিরাপত্তারক্ষী অশোক কুমার রায়। তাঁর কথায়, “চোখের সামনে যা দেখলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। যেভাবে পাঁচতলা উঁচু কাঠামো ভেঙে পড়ল, তা আতঙ্কের চূড়ান্ত।”
কী কারণে এই বিপর্যয়? প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের লিজ নেওয়া এই জমিতে ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর মালিকানায় গুদাম তৈরির কাজ চলছিল। অভিযোগ, সকাল থেকেই নির্মীয়মাণ কাঠামোটি নড়বড় করছিল। শ্রমিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপরে উঠলে হঠাৎ করেই লোহার বিম ও ঢালাই করা কংক্রিটসহ পুরো ছাদ ভেঙে পড়ে। ভারী বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে নির্মাণে কোনো গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক তৎপরতা: ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শ্রমিকদের সন্ধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে। ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা। উদ্ধারকাজ তদারকি করতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।
নির্মাণকাজের নিরাপত্তার প্রশ্নে এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে কন্ট্রাক্টর আসগর খান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা। সঠিক তদন্তেই বেরিয়ে আসবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার আসল কারণ।